রাজনীতি

নিয়ম অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, যেন আইনি বিষয়ে প্রশ্ন না ওঠে

জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই (নিয়ম অনুযায়ী) এটি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।  শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকার কারণেই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ অনাহারে থেকেছে। দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করতো। ঠিক সেসময়েই আবার শেখ কামালের বিয়ে হয়েছে মুকুট পরিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত। পথে ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দায়িত্ব নেন। তার খাল খনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথম খাদ্য রপ্তানি করে সেনেগালে।

আরও পড়ুনজুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৭ দাবি জানালো ছাত্রশিবির শনিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ১১ দল 

নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।  বিরোধী দল প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি চেয়েছিল। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, তারেক রহমান টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।  অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া ও জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির।

এমওএস/কেএসআর