চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার হারুন আলী–সোনিয়া দম্পতির ১০ বছর বয়সি মেয়ে ফাতিমা খাতুন। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৩০ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সারাদিন চেষ্টা করেও আইসিইউতে কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউ সেবা না পেয়েই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি।
অথচ মৃত্যুর তিন দিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ শাখা থেকে ফাতিমা খাতুনকে ভর্তি করার জন্য ফোন করা হয় শিশুটির বাবাকে। কিন্তু ততক্ষণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতেই পারেনি যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মারা গেছে শিশু ফাতিমা। মৃত্যুর তিনদিন পর ২ এপ্রিল বিকেল ৫টায় মুঠোফোনে কলে দিয়ে আইসিউতে ভর্তির জন্য বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ততক্ষণে শিশুকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন স্বজনরা।
ফাতিমার মা সোনিয়া বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে আমার মেয়ের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনেক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েও ভালো হয়নি। পরে কবিরাজের কাছেও দেখিয়েছি। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ৩০ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করি। কিন্তু এতেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে আইসিইউতে রাখতে বলেন চিকিৎসকরা। এজন্য রামেকের আইসিইউ বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু আইসিইউ না পেয়ে বিকেল ৫টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে আমার মেয়ে। পরে ২ এপ্রিল আইসিইউ বিভাগ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আমার মেয়েকে আইসিইউতে রাখার জন্য। কিন্তু আমার মেয়েতো আর পৃথিবীতে নেই। কাকে আইসিইউতে রাখব।’
ফাতিমার বাবা হারুন আলী বলেন, ‘আমি রিকশা চালাই। কোনোমতে আয় করে সংসার চলে। গত ১৫ দিন ধরেই হামে আক্রান্ত ছিল আমার মেয়ে। কোন চিকিৎসকই আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেননি। আমি কী বলবো, কার কাছে বলবো, কোথায় যাব? গরিবের মূল্য কোথাও নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মারা গেছে ৩০ মার্চ। আর ২ এপ্রিল, মেয়ের মৃত্যুর তিন দিন পরে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখার জন্য ফোন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটি শুনে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার মেয়ের মৃত্যুর আগে আইসিইউর জন্য ছটফট করেছি, কিন্তু পাওয়া যায়নি। তার মৃত্যুর তিন দিন পর আইসিইউ নিয়ে আমি কী করবো।’
সোহান মাহমুদা/এফএ/এএসএম