লাইফস্টাইল

ফিট থাকতে কতটুকু প্রোটিন খাবেন

শরীরের সুস্থতা ও সঠিক কার্যকারিতার জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। দেহের টিস্যু গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রোটিন অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। পেশি গঠনের পাশাপাশি এনজাইম, নিউরোট্রান্সমিটার ও হরমোন তৈরিতেও প্রোটিন থেকে পাওয়া অ্যামাইনো অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রোটিনের অভাবে কী সমস্যা হয়

যেসব খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন নেই, সেগুলো খাওয়ার পর খুব দ্রুতই ক্ষুধা ফিরে আসে এবং শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়। দীর্ঘদিন প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এর ফলে চুল পড়া, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং পায়ের গোড়ালিতে পানি জমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যায়।

ব্যায়ামের পর কতটুকু প্রোটিন খাবেন

দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, শরীরচর্চার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন গ্রহণ করা পেশির পুনরুদ্ধার ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রোটিন না নিলে ব্যায়ামের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যায় না।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শরীরচর্চার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন, এই সময়ের মধ্যে প্রোটিন না খেলে পেশির সঠিক বৃদ্ধি হয় না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা গবেষণায় প্রায় ৩,০০০ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের ঠিক পরেই প্রোটিন গ্রহণ করা হোক বা কয়েক ঘণ্টা পরে,পেশি গঠনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয় না।

অর্থাৎ, শুধু নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রোটিন নেওয়ার চেয়ে সারাদিনে মোট কতটা প্রোটিন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশি গঠন ও পুনরুদ্ধার স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়। তাই শুধু ব্যায়ামের পর নয়, সারাদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি।

প্রোটিন যেভাবে গ্রহণ করা উচিত

প্রোটিনকে সারাদিনের খাবারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। প্রতিটি প্রধান খাবারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখলে তা বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে এবং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা খালি পেটে ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের ১-২ ঘণ্টার মধ্যে প্রোটিন গ্রহণ শরীরের পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

৪০-এর পর প্রোটিনের বাড়তি গুরুত্ব

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমতে শুরু করে। তাই ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রোটিন গ্রহণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত। এছাড়া ঘুমানোর আগে ধীরে হজম হয় এমন প্রোটিন, যেমন দুধ বা কটেজ চিজ, পেশি পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

প্রোটিনের উৎস ও সঠিক অভ্যাস

প্রোটিনের ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ নয়, গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্যতালিকায় চর্বিহীন মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল এবং বাদামের মতো পুষ্টিকর উৎস রাখা প্রয়োজন। নিজের ওজন, বয়স এবং শারীরিক কার্যকলাপ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দৈনন্দিন মোট গ্রহণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিমাণে ও নিয়ম মেনে প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশি শক্তিশালী হয়, শরীর সুস্থ থাকে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

সূত্র: হেলথ লাইন, মায়ো ক্লিনিক

আরও পড়ুনরান্না ছোলার বদলে ইফতারে থাকুক অঙ্কুরিত কাঁচা ছোলা মাখানো ফুড পয়জনিং নাকি ডায়রিয়া? লক্ষণ মিললেও দুটো এক নয় 

এসএকেওয়াই