গাজীপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছ থেকে ৬৫ কোটি টাকার একটি ভুয়া ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দুই জন এবং পরবর্তীতে ঢাকা থেকে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার পূর্ব দেউলি গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লার মুরাদ নগরের মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) ও বগুড়া সদরের মালতীনগর এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাব্বির আলী (৪৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মোর্শেদ আলম ও নজরুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করে নিজেদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তারা ৬৫ কোটি টাকা ব্যক্তিগত ঋণের একটি ‘সম্মতিপত্র’ ডিসির সামনে উপস্থাপন করে তাতে স্বাক্ষর করার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ ছিল যে, ১৮ মাসের মধ্যে ঋণের সমপরিমাণ অর্থ কাজের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। তবে চিঠিতে কোনো নাম-ঠিকানা বা বৈধ স্বাক্ষর না থাকায় জেলা প্রশাসকের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার গুলিস্তান এলাকা থেকে চক্রের মূল হোতা সাব্বির আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের নিয়ে কদমতলী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষরযুক্ত ব্লাঙ্ক চেক ও লিখিত স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি করে আসছিল। মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম