আন্তর্জাতিক

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে শূন্য করার ডাক মমতার

বিজেপিকে শূন্য করে বাংলাকে পূর্ণ করার ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে একটি নির্বাচনী প্রচারণা থেকে মমতা বলেন, দেশের পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে। এই পাঁচ জায়গা থেকে ৫০৬ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বাংলা থেকেই ৪৮৩ জন রয়েছে। আপনারা কি এই খেলাটা বুঝতে পারছেন?

এরপরই মমতার হুশিয়ারি, দুরন্ত খেলা হবে। দুর্দান্ত খেলা হবে। বিজেপিকে শূন্য করে দিন, বাংলাকে পূর্ণ করে দিন। বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা আগামী দিন দিল্লিকে টার্গেট করবো।

মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, ২০২৬ সালেই বিজেপি বিদায় হবে। বাংলা থেকে বিদায় করে তারপর তাদের দিল্লি থেকে বিদায় করতে হবে। তার অভিযোগ, ওরা এখন বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে। তাই বলি, যদি ভাষাকে রক্ষা করতে হয়, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয় তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস আসলে এনআরসি করতে দেবো না, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেবো না।

বিজেপিকে বাংলা বিরোধী আখ্যায়িত করে মমতা বলেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশে বাংলায় কথা বললে গ্রেফতার করা হচ্ছে, দিল্লিতে বাংলায় কথা বললে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি বাংলা-বিরোধী। এরা কাউকে পছন্দ করে না। এসআইআরএ ২৩৬ জনের বেশি মারা গেছে। তার মধ্যে অর্ধেক হিন্দু, অর্ধেক মুসলমান। আদিবাসী ভাইবোনেরাও আছে। তাদের জন্য কি একটুও দুঃখ হয় না? সেই নামগুলো কেটে দেওয়া হলো।

এখান থেকে যে জিতেছিলেন তারও তো একটা ভোট ছিল। এখান থেকে জিতে যদি নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তবে ওই ভোটার তালিকা দিয়েই কেন বাংলায় ভোট হবে না? এই ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থাকে তবে আপনিও অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে জিতেছেন। সর্বপ্রথম আপনারই পদত্যাগ করা উচিত।

ওরা (বিজেপি) চায় বাংলাকে দখল করে বাংলার মানুষকে টাইট দিতে। আমাদের প্রার্থীরা যেন ওভার কনফিডেন্স না হয়। কারণ ভোটের দিন ওদের অন্যরকম পরিকল্পনা রয়েছে। সিআরপিএফ দিয়ে আটকে দিতে পারে, যাতে ভোটাররা গ্রাম থেকে বের হতে না পারে। তাই ভোটের দিন যদি আপনাদের আটকানো হয় তবে ঝাঁটা নিয়ে পরিষ্কার করতে করতে যাবেন। তাতে একদিন নয় রাস্তাঘাট পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদি লক্ষীর ভান্ডার, কৃষক বন্ধু, যুব সাথী, কন্যাশ্রী চান তবে মা-বোনেরা পাহারা দিন।

২৯৪ টা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভুলে যান। সব কেন্দ্রে আমি একাই প্রার্থী। সরকারটা আমরাই গড়বো। এই তৃণমূল সরকার না আসলে আপনাদের ঠিকানা থাকবে না, অস্তিত্ব থাকবে না। আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হবে, বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেবে। তাই বিজেপিকে জব্দ করতে হবে।

আমি আরেকটা খবর শুনেছি। নারীদেরও নাকি তল্লাশি চালানো হবে। আইটিবিপির ডিজি এসে বলে গেছেন। যদি উল্টোপাল্টা কিছু করে প্রতিবাদ করবেন। আপনার গায়ে হাত দিতে দেবেন না। ওইটা করতে গিয়ে যাতে আপনার ভোটটা নষ্ট না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। আপনাকে ভোটটা দিতে হবে।

মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদেরকে আটকে রেখে হামলা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি, এআইএমআইএম, আইএসএফ ও কংগ্রেসকেও দায়ী করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি ধরেছেনা হাতেনাতে। সে বাগডোগরা দিয়ে পালাচ্ছিল। মুম্বাই থেকে এসছিল। মুম্বাই থেকে বিজেপি ধার করে এআইএমআইএমকে নিয়ে এসেছিল।

আইএসএফের সাথে কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে, বিজেপির উস্কানি আছে। বিহারে এরা ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়েছিল বিজেপির রুপিতে। আর বুধবার যারা দাঙ্গা করেছিল সেটাও এরাই করেছিল। মনে করবেন পরিকল্পনা করে পরিকল্পিত করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আসলে এই সুযোগে সংখ্যালঘুদের খেপিয়ে দিয়ে তাদের ওপর এনআইএ, সিবিআই, ইডি দিয়ে অত্যাচার করা। এরই মধ্যে মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি হলেন মোফাখারুল ইসলাম। জানা গেছে, এই মোফাখারুল ইসলামের উস্কানিতে কালিয়াচকের ওই ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকালের দিকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বেঙ্গালুরুতে পালাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। তার সাথে গ্রেফতার করা হয় তারই এক সহযোগী আকরামুল বাগানি। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনো পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এরই মধ্যে মামলার ভার দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএকে। আইপিএস কর্মকর্তা সোনিয়া সিং-এর নেতৃত্বে এনআইএর একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

ডিডি/টিটিএন