খেলাধুলা

‘টিভিতে যার খেলা দেখতাম এখন তার সঙ্গে খেলি, ভাবতেই অবাক লাগে’

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ তার সতীর্থ লিওনেল মেসিকে আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘মাঠের ভেতরে যেমন, মাঠের বাইরেও মেসি আমার জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।’ ছোটবেলা থেকেই মেসির ভক্ত ছিলেন ফার্নান্দেজ, আর এখন সেই ফুটবল আইকনের সঙ্গেই একই দলে খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের বড় সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন।

২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ২০২২ সাল থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির সঙ্গে খেলছেন। এর মধ্যেই তিনি বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ী দলের সদস্য হয়েছেন। তার মতে, মেসি শুধু একজন মহান ফুটবলারই নন, একজন পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বও।

ফার্নান্দেজ বলেন, ‘মেসি মাঠে ও মাঠের বাইরে- দুই জায়গাতেই আদর্শ। তিনি কিভাবে নিজেকে পরিচালনা করেন, কিভাবে সতীর্থদের সঙ্গে আচরণ করেন, এমনকি ড্রেসিংরুমে সবাইকে কিভাবে অনুপ্রাণিত করেন- সবকিছুই শেখার মতো। তার সঙ্গে একই দলে থাকতে পারা সত্যিই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা।’

সম্প্রতি জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, যেখানে মেসি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১১৬তম গোলটি করেন। বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড পুরো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ফার্নান্দেজ জানান, ‘মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জয়ের মানসিকতা। তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চান এবং অন্যদের কাছ থেকেও সেটাই প্রত্যাশা করেন। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি যেভাবে নিজের মান ধরে রেখেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

শুধু বর্তমান সময় নয়, কিশোর বয়স থেকেই মেসির প্রতি ফার্নান্দেজের ভালোবাসা ছিল গভীর। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার সময় তিনি মেসির সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চেয়েছিলেন- যেন স্মৃতি হিসেবে থাকে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় টেলিভিশনে যাকে দেখতাম, আজ তার সঙ্গে একই দলে খেলছি, এটা ভাবতেই অবাক লাগে।’

২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর যখন মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী ফার্নান্দেজ তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি মেসিকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তিনি জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যান।

ফার্নান্দেজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেসির খেলা দেখতাম। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর এবং ২০১৬ সালের হতাশার পর মেসির কষ্ট আমাকে নাড়া দিয়েছিল। সেই আবেগ থেকেই চিঠিটি লিখেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে যখন ভাবি যে আমি মেসির সঙ্গে একই দলে খেলেছি, এমনকি বিশ্বকাপও জিতেছি- তখন সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হয়। যদিও সেই চিঠির কথা তারা কখনো আলাপ করেননি, এমনকি মেসি সেটি দেখেছেন কিনা তাও জানা নেই।’

ফার্নান্দেজের চোখে মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলার নন, বরং একজন পথপ্রদর্শক- যার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শেখার আছে অনেক কিছু।

আইএইচএস/