ইরান যুদ্ধ ও নিখোঁজ পাইলট উদ্ধার অভিযান ঘিরে চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ৭৯ বছর বয়সী নেতাকে ম্যারিল্যান্ডের ‘ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে’ ভর্তি করা হয়েছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হয়েছে হোয়াইট হাউজকে।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে হঠাৎ করেই প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন সূচিতে কেবল ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ (ব্যক্তিগত সময়) বরাদ্দ রাখা হয়। এরপর দ্রুতই হোয়াইট হাউজ থেকে ‘লিড’ ঘোষণা করা হয়, যার অর্থ সেদিন প্রেসিডেন্ট আর জনসম্মুখে আসবেন না। সপ্তাহান্তের ছুটিতে ট্রাম্পের মতো কর্মচঞ্চল একজন ব্যক্তির এমন হঠাৎ অনুপস্থিতি এবং জনৈক ধারাভাষ্যকার এড ক্রাসেনস্টাইনের একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন ওঠে, ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টকে সেখানে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন>>ইরান থেকে দ্বিতীয় পাইলটকেও জীবিত উদ্ধার, ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বন্ধুত্বে ফাটল, ন্যাটোয় ভাঙনের সুর৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি চায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ‘না’
এই জল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হোয়াইট হাউজের র্যাপিড রেসপন্স টিম এক্সে পোস্ট করে জানায়, ‘উন্মাদ লিবারেলরা যখন দেখে প্রেসিডেন্ট ১২ ঘণ্টা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না, তখনই তারা এমন সব পাগলামিপূর্ণ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আবিষ্কার করে। ভয় পাবেন না! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আক্ষরিক অর্থেই এক মুহূর্তের জন্য কাজ থামান না।’
হোয়াইট হাউজের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুং এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্প ইস্টার ছুটির পুরোটা সময় ওভাল অফিসে বিরতিহীনভাবে কাজ করছেন। এছাড়া ওয়েস্ট উইংয়ের সামনে মেরিন সেন্ট্রির উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে, প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরেই আছেন এবং নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।
সত্যতা যাচাইবিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকার এবং সংবাদমাধ্যম হাসপাতালের সামনে কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর দেখতে পায়নি। ফলে ট্রাম্পের হাসপাতালে ভর্তির দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।
তবে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হওয়ায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে জনমনে সবসময়ই বাড়তি কৌতূহল থাকে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তার এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল, যেগুলোর ফলাফলকে ট্রাম্প নিজে ‘পারফেক্ট’ বলে দাবি করেছিলেন। এছাড়া পায়ে রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকরা তাকে বিপদমুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমসকেএএ/