চৈত্রের কাঠফাটা গরমে শরীর যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন খাবারের তালিকায় টক স্বাদের চাহিদা বেড়ে যায়। এই সময় কাঁচা আম দিয়ে ডাল, ভর্তা কিংবা জুস- সবই যেন আলাদা স্বাদ এনে দেয়। বর্তমানে সেই কাঁচা আমই রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, যা ভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রাজধানীর লালবাগের খাজে দেওয়ান এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক কবির হোসেন ।প্রতিদিনের মতো রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তার সহধর্মিণী ফেরার পথে বাজার থেকে কাঁচা আম নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। দুপুরে কাঁচা আম দিয়ে ডাল রান্না ও সর্ষে বাটা দিয়ে ভর্তা করার পরিকল্পনার কথা জানালেন।
কিন্তু, বাজারে গিয়ে আমের দাম শুনে কবির হোসেন কিছুটা হতবাক হয়ে যান। আকারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। শেষ পর্যন্ত দরদাম করে মাঝারি সাইজের ২ কেজি আম ৩০০ টাকায় কিনে বাড়ি ফেরেন তিনি।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবির হোসেন বলেন, কাঁচা আমের এমন দাম কল্পনাও করিনি। মৌসুমে পাকা আম যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে কাঁচা আমই এত দামে! বিক্রেতারাও একদাম হাঁকছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা আম উঠতে শুরু করলেও সরবরাহ এখনো সীমিত। চৈত্রের তীব্র গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে দামও বেড়েছে।
মধ্য বাড্ডা এলাকার ফুটপাতের সবজি ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান, শনিবার সকালে তিনি কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনতে গিয়ে দেখেন, কাঁচা আমের তিনটি ট্রাক এসেছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো বিক্রি হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমি নিজেও ১১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি কিনেছি। এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি।
জুস কর্নারেও বাড়তি চাহিদাকারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা জানান, মৌসুমের শুরু হওয়ায় এবং গরমের কারণে কাঁচা আমের চাহিদা এখন বেশি। শুধু বাসাবাড়ির গৃহিণীদের কাছেই নয়, বিভিন্ন জুস কর্নারেও কাঁচা আমের জুসের চাহিদা বেড়েছে।
তার ভাষায়- এখনো বাজারে আম কম। তাই দাম একটু বেশি। তবে কয়েকদিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে আসবে।
স্বস্তির অপেক্ষায় ক্রেতাবর্তমান পরিস্থিতিতে কাঁচা আম কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে।
ততদিন পর্যন্ত চৈত্রের গরমে টক স্বাদের এই জনপ্রিয় ফল কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের পকেটেই পড়বে বাড়তি চাপ।
এমইউ/এএমএ