আমিনুল ইসলাম
ইরানের যুদ্ধ যেভাবে আগাচ্ছে! বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে এখন থেকেই নাগরিকদের সতর্ক করা; এমনকি সামনে কেমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে; সেটাও নাগরিকদের জানিয়ে রাখা। নইলে আপনারা বিপদে পড়তে পারেন। এখানে তো সরকারের কোনো হাত নেই। কিন্তু আপনারা যদি জনগণকে অন্ধকারে রাখেন; মানুষ ভাববে আপনারা কিছু লুকাতে চাইছেন। ক্ষোভ গিয়ে আপনাদের ওপরই পড়বে। এটাই হিউম্যান নেচার।
আমি ইরান যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছি একদম প্রথম দিন থেকে এবং প্রতিদিন এই যুদ্ধ বিশ্লেষণ করে চলেছি। একটা আলোচনা চলছে। যেখানে পাকিস্তান মেডিয়েশন (মধ্যস্ততা) করছে। এক অর্থে এই আলোচনার শেষ দিন আগামীকাল। কারণ ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটাম আগামীকাল শেষ হবে। ম্যানিয়াক ট্রাম্পের কোনো বিশ্বাস নাই। সে এই অবস্থায় রেখে যুদ্ধ বন্ধ করে চলে যেতে পারে। এটা হবে বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে খারাপ আউটকাম। অর্থাৎ সবচাইতে খারাপ ফলাফল।
আপনাদের জানিয়ে রাখি, স্রেফ আজ রাতে আমি চারটা মেসেজ পেয়েছি মধ্যপ্রাচ্য থেকে; যারা চাকরি হারিয়ে আমাকে মেসেজ করেছেন। এই যুদ্ধের কারণেই তাদের চাকরি চলে গেছে। এখন ট্রাম্প যদি এই অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করে; যুদ্ধ কিন্তু চলতে থাকবে। ইরান থামবে না। অনেক বাংলাদেশি চাকরি হারাবে। আর হরমুজ প্রণালিও খুলবে না। ইরান আপাতত একটা ড্রাফট করছে- কীভাবে কোন দেশের কাছ থেকে কত টাকা নেবে। এটাও যদি হয়; তাহলেও বাংলাদেশকে অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হবে।
আর ট্রাম্প আজকে যা বলেছে; সেটা হচ্ছে: আমরা চাইলেই হরমুজ প্রণালি দখল করতে পারি। ইরানের তেল নিয়ে ভাগ্য বদলাতে পারি। কিন্তু সময় লাগবে। এই অপশনেও যদি ট্রাম্প যায়। তাহলেও সময় লাগবে। আর সব কিছু বাদ দিয়ে ট্রাম্প যদি এই আল্টিমেটাম শেষ হবার পর ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ওদের বিদ্যুৎ এবং পানি শোধানাগারে আঘাত করে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে শেষ করে দেবে। সেই সাথে শেষ হবার পথ ধরবে বাংলাদেশ। না পাবেন বৈদেশিক মুদ্রা, না পাবেন তেল। অর্থাৎ যে তিনটা ফলাফলের কথা বললাম- ১. ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করে চলে যাবে ২. ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দখলের চেষ্টা করবে ৩. ট্রাম্প ইরানকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাবে। এই তিনটা ফলাফলের কোনোটাই বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। দুই পক্ষ যদি চুক্তিতে না আসে (তেমনটা দেখে মনে হচ্ছে না আপাতত। কারণ সাম্রাজ্যবাদীরা শক্তি দেখাতেই পছন্দ করে।); তাহলে বাংলাদেশের কপালে খারাপ আছে। I’m sorry, but I’m afraid I don’t have any good news (দুঃখিত, একজন বিশ্লেষক হিসেবে আপনাদের ভালো কোনো সংবাদ দিতে পারছি না)।
যদি ধরে নেই তিন সপ্তাহ পর যুদ্ধের সমাপ্তি হবে। সব আগের মতো হয়ে যাবে। তবুও বাংলাদেশে এর কঠিন প্রভাব পড়বে। তেল-গ্যাসের দাম অনেক বেড়ে যাবে। চাষাবাদের জন্য সার পাবেন না। বৈদেশিক মুদ্রাও কমবে। সুতরাং আগামী এক-দুই বছর এই ধাক্কা চলতে থাকবে। তাই সরকার এবং দেশের জনগণকে এখনই সতর্ক হতে হবে।
খরচ কিছুটা কমিয়ে ফেলুন (এটাও আসলে অর্থনীতির জন্য খারাপ। তবে মন্দের ভালো।) সিনেমা দেখার সময় এখন নয়। এখন সময় অবস্থা খারাপ হলে (এমনকি যদি অল্প বিস্তরে দুর্ভিক্ষও হয়); এটা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়; সে বিষয়ে বাস্তব দিক নির্দেশনা দেওয়া।
আরও পড়ুনএলাচিতে রং মেশাতে হচ্ছে কেনপ্যানিকড হবার দরকার নেই। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। সরকারেরও কোনো হাত নেই। আবার সব কিছু ভালোও হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এটাই স্বাভাবিক। এর মাঝে আমরা বাংলাদেশিরা আবার দরিদ্রদের মাঝেও একটু বেশিই দরিদ্র! তাই সরকার যদি এই পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে না পারে। তাহলে দায় সরকারের কাঁধেই পড়বে। সব শেষে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদেরও উচিত যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আপাতত প্রস্তুত থাকা।
লেখক: বিশ্লেষক এবং জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, এস্তোনিয়ান এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইউনিভার্সিটি।
এসইউ