দেশজুড়ে

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি আটকিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের গাড়ি আটকিয়ে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। এসময় তারা প্রতিমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

রোববার (৫ এপ্রিলে) দুপুরে ওই হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত রোববার সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুরে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে দুপুর ১২টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. আলী আকবর পলানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গাজীপুর সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে স্থানীয় কিছু লোক ব্যানার নিয়ে মন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ তাকে অপসারণের দাবি জানান।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রতিমন্ত্রীকে জানায়, বর্তমান পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট আমলে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে এ হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। এখনো তিনি বহালত তবিয়তে আছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতায় হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক সময়মতো থাকে না। রোগী আসলে তাদের ঢাকায় রেফার্ড করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীগুলো ইচ্ছেকৃতভাবে নষ্ট করে রাখা হয়। হাসপাতালের পরিবেশও নোংরা। বারবার পরিচালককে এসব বিষয়ে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি বর্তমান সরকারের ইমেজ নষ্ট করার জন্য স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের প্রশ্নের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. আলী আকবর পলান বলেন, বর্তমান পরিচালক আমাদের ড্যাবের সদস্য নন। তার বিরুদ্ধে অনেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ করেছেন। আজ প্রতিমন্ত্রীকে পেয়ে সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষোভের কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মো. আমিনুল ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম