দেশজুড়ে

তেল সংকটে কঠিন হচ্ছে চরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা

‘আমাদের সবজি, ধানসহ বিভিন্ন ফসল সময় মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি’ কথাগুলো বলছিলেন মুন্সিগঞ্জের দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষক নাসির উদ্দীন।

শুধু নাসির নয়, তেল সংকটে তার মতো এই অঞ্চলের কৃষকসহ অন্য পেশাজীবীদের জীবন-জীবিকা চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদরের বাংলাবাজার ও শিলই ইউনিয়ন এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত দুর্গম চর। এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র ভরসা ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল। জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে অধিকাংশ মোটরসাইকেল অচল হয়ে পড়েছে। প্রায় ৩ শতাধিকের অধিক মোটরসাইকেল চালক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জের দুর্গম চরাঞ্চলের মোটরসাইকেল চালক আলী আক্কাস বলেন, আমরা প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম। এখন তেল না থাকায় গাড়ি বের করতে পারছি না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিঘিরপাড় বাজার থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে চরাঞ্চলের গ্রাম ঘুরে আরও দেখা যায়, এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নদীপথ ও কাঁচা রাস্তার হওয়ায় দ্রুত চলাচলের জন্য একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল।

এছাড়া শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছে না। কৃষক নাসির উদ্দীনসহ একাধিক কৃষককে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মাথায় করে কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতে দেখা গেছে। এ সময় কথা হয় কৃষক নাসির উদ্দীনের সঙ্গে।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার মতো ওই এলাকার সব কৃষকের একই অবস্থা। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক মাথায় চাঙারি নিয়ে পায়ে হেঁটে দিঘিরপাড় বাজার তাদের উৎপাদিত সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন।

দিঘিরপাড় বাজারের অপর প্রান্তে অসল সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক সাগর বেপারী।

তিনি বলেন, এই মোটরসাইকেলই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। হঠাৎ করে তেলের অভাবে আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ হোসেন জানান, আগে মোটরসাইকেলে ২০-৩০ মিনিটে বাজারে যাওয়া যেতো। এখন হেঁটে যেতে ২-৩ ঘণ্টা লাগে। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে।

গৃহিণী আকলিমা সখী বলেন, বাচ্চা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না, অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়।

ফলে এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুর মহল আশরাফি জাগো নিউজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এমন সংকট তৈরি হয়েছে, তবে চরের মানুষের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া দুর্গম এলাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এর ফলে সংকট কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।

শুভ ঘোষ/এনএইচআর/জেআইএম