মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় ৩ মাসের একটি শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, মৃত শিশুটির নাম রিহান। সে উপজেলায় ভাটেরা ইউনিয়নের রিপন সিদ্দিকীর ছেলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন জাগো নিউজকে জানান, শিশুটি অসুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা জেলা শহরের একজন শিশু চিকিৎসককে দেখান। চিকিৎসক নিউমোনিয়া থাকায় দুটি পরীক্ষা করানোর জন্য বলেন। পরে শিশুর পরিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে রক্ত নেওয়ার সময় শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে। অচেতন হয় মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মৃত শিশুর বাবা রিপন সিদ্দিকী বলেন, তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন শিশুর হাত থেকে রক্ত নিতে না পেরে পায়ে নিতে গেলে বাচ্চা কান্নাকাটি করে অবশ হয়ে যায়। এসময় আবার তাকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে পরীক্ষার জন্য যাওয়ার সময় শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনের অবহেলাজনিত কারণে আমার বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রিহান গত এক সপ্তাহ থেকে জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয় শিশুকে। ভর্তির পর থেকে ক্যানুলার মাধ্যমে ইনজেকশন ও চিকিৎসা চলছিল। ডাক্তারের পরামর্শে এক্স-রে ও সিবিসি পরীক্ষার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি হাসপাতালে সম্মুখে তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাই। এক্স-রে পরীক্ষার পর সিবিসি জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় শিশু কান্নাকাটি করে কাঁপুনি উঠে নিল হয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুলাউড়া তাজমহল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোবাইলে ফোনে কল দিলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জাগো নিউজকে জানান, গতকাল ঘটনার পর ডায়াগনস্টিক সেন্টার পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। নিহত শিশুর পরিবার হয়তো বুঝতে পারেছে না কী কারনে মৃত্যু হয়েছে।
এম ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম