পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ৬ ঘণ্টা পর সজীব (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুরের দিকে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়াঘাট এলাকায় গোসলে নেমে তিনি নিখোঁজ হন।
নিহত সজীব বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী নিশানডোবা এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। সজিব ঢাকায় একটি মাদরাসাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে সজিব, আমিন, সুজন, সোহেল রানা চার বন্ধু মিলে নদীতে গোসল করতে নামে। সজীব সাঁতার না জানায় হঠাৎ করেই তিনি নদীর গভীর তলিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা আরেক বন্ধুও গভীরে তলিয়ে যেতে শুরু করলে অপর দুই বন্ধু তাকে টেনে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এসময় নিখোঁজ হন সজীব।
খবর পেয়ে বোদা ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না মেলায় রংপুর থেকে ডুবুরি দল আনা হয়। অবশেষে ৬ ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আউলিয়ার ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের ব্যাপক ভিড় শুরু হয়।
সজিবের সঙ্গে গোসল করতে নামেন আমিন। তিনি বলেন, কুরবানি ঈদের পরে তার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা ছিল। পার্সপোর্ট ভিসার কাজ করতে এসেছিল। আমাদের দুইজন সাঁতার জানি। সজিব নদীর স্রোতে ডুবে যাওয়া শুরু করলে আমরা তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও পারিনি।
স্থানীয় ময়নুল হোসেন বলেন, নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে গভীর গর্ত করা হয়েছে। সেখানে ডুবে আজকে ছেলেটি মারা গেছে। এর আগে, আরও দুইটি ছেলে নদীতে একইভাবে মারা গেছে। আমরা এই অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ চাই।
বোদা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রায়হান ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালাই। পরে রংপুর থেকে ডুবুরী দল এসে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বোদা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল করা হয়েছে। এনিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সফিকুল আলম/এনএইচআর/এএসএম