তথ্যপ্রযুক্তি

বেসিস নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ২৭ জুন

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ পরিচালক পদে আগামী ২৭ জুন এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের সময়ে প্রশাসক থাকা সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রথম সংগঠন হিসেবে বেসিস নির্বাচনের ঘোষণা এলো।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এ তথ্য জানা গেছে। সংগঠনটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৫ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলামের সই করা তফসিল অনুযায়ী, সদস্যপদ নবায়ন ও ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ এপ্রিল। এর মধ্যে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মনোনয়নপত্র, ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ মে। এ তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ চলবে ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত। ১১ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ১৪ ও ১৫ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ থেকে ২১ মে পর্যন্ত। যাচাই-বাছাই শেষে ২২ থেকে ২৮ মে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন বাতিল সংক্রান্ত আপিল গ্রহণ চলবে ২৮ থেকে ৩০ মে এবং তা নিষ্পত্তি হবে ৩১ মে থেকে ২ জুনের মধ্যে।

আরও পড়ুনপ্রশাসকমুক্ত সংগঠনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির পরই ভোট চান ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী সংগঠনের দুর্বলতায় খেয়ালখুশি মতো সিদ্ধান্ত সরকারের 

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত এবং একই দিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে একই দিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আপত্তি থাকলে ২৮ জুন তা দাখিল করা যাবে। আপিল শুনানি শেষে ১ জুলাই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে আপিলের ভিত্তিতে সংশোধিত ফলাফল ৮ জুলাই প্রকাশ করা হতে পারে।

নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, প্রয়োজনবোধে তফসিলে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা তাদের সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন সংক্রান্ত সব তথ্য নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। তার পদ শূন্য হয়ে গেলে পরে বেসিসের সভাপতির দায়িত্ব পান এম রাশিদুল হাসান। কমিটি পূনর্গঠন করা হলেও সেই কমিটিও টেকেনি। তার পর থেকেই প্রশাসক দিয়ে চলছে সংগঠনটি। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সময়ে সংগঠনটির নির্বাচনের ঘোষণা এলো। বড় সংগঠনগুলোর মধ্যে এখনো দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই ও ই-ক্যাব প্রশাসক দিয়ে চলছে।

ইএইচটি/কেএসআর