তীব্র গরমে অনেকেই হঠাৎ পেট খারাপ, হজমে সমস্যা, ডায়রিয়া বা খাবারে অরুচির সমস্যায় ভোগেন। কেউ ভাবেন খাবার ঠিক ছিল না, কেউ আবার পানির দোষ দেন।
কিন্তু আসলে গরমের সঙ্গে পেটের এই সমস্যার সম্পর্ক বেশ গভীর - যা আমরা অনেক সময় খেয়ালই করি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আসে, যার প্রভাব পড়ে হজম প্রক্রিয়াতেও।
১. পাচক রসের অভাবগরমে শরীর বেশি পানি হারায়, ফলে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এতে হজমের রসের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং পেটের অস্বস্তি বাড়ে।
২. খাবারে ব্যাকটেরিয়াউচ্চ তাপমাত্রায় খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার খাবার বা দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। এসব খাবার খেলে সহজেই ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।
৩. অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকগরমে অনেকেরই খাওয়ার রুচি কমে যায়, আবার কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। এতে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় বা সফট ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাসও হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৪. দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাআরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - এই সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা কমে যায়। এতে সহজেই সংক্রমণজনিত পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ->> পর্যাপ্ত পানি পান করুনদিনে বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করুন। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকবে।
>> তাজা ও পরিষ্কার খাবার খানবাইরের খাবার, বিশেষ করে খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন। যতটা সম্ভব ঘরের তাজা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
>> অতিরিক্ত তেল-ঝাল কমানভারী, ভাজাপোড়া বা মসলাযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই গরমে এগুলো কম খাওয়াই ভালো।
>> ফল ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিনতরমুজ, পেঁপে, দই, ভাত - এসব সহজপাচ্য খাবার গরমে পেটের জন্য আরামদায়ক।
>> খাবারের সময় নিয়ম মেনে চলুনদীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো।
>> পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুনখাওয়ার আগে হাত ধোয়া, পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা - এসব অভ্যাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
গরমে পেটের সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও, সচেতন থাকলে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন এনে এই তীব্র গরমেও নিজেকে সুস্থ রাখুন।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, আইসিডিডিআরবি
এএমপি/জেআইএম