খেলাধুলা

অসম্ভব কোণ থেকে বাঁকানো শটে নিখুঁত গোল: কিউবিয়াসের জাদুকরী ছোঁয়া

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক ছিল আর্জেন্টিনা। স্বাগতিক হয়েই প্রথম বিশ্বকাপ জয় করে মারিও কেম্পেসের দল। তখনও ম্যারাডোনা ‘ফুটবলার’ হিসেবে জন্ম নেননি। অর্থ্যাৎ, বয়স কম হওয়ায় তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়নি।

তবে পেলে পরবর্তী সময়ে যে ক’জন তারকা বিশ্ব ফুটবলে ঝলক দেখিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পেরুর কিংবদন্তী তিওফিও কিউবিয়াস। ১৯৭৮ বিশ্বকাপেই তিনি উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের অসাধারণ এক গোলের।

১৯৭৮ বিশ্বকাপে সেটি ছিল এক অনন্য মুহূর্ত। যেখানে দক্ষতা, কৌশল আর সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিশেলে জন্ম নিয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর একটি গোল। পেরুর কিংবদন্তি কিউবিয়াসের সেই আউটসাইড অফ-দ্য-বুট শট আজও বিশ্বকাপের ‘ওয়ান্ডার গোল’ তালিকায় বিশেষভাবে স্থান করে আছে।

আর্জেন্টিনার কর্দোবার এস্টাডিও অলিম্পিকো চ্যাতেউ ক্যারেরাসে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ ৪’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পেরু ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে আসে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

এর আগে থেকেই কিউবিয়াস ছিলেন বিশ্বমঞ্চের পরিচিত নাম। ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপে মাত্র ২১ বছর বয়সে চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এরপর ১৯৭৫ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং একটি অসাধারণ ফ্রি-কিক থেকে গোল করে পেরুকে ৩-১ ব্যবধানে জিতিয়ে আলোচনায় আসেন। সেই সময় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘কিউবিয়াসই নতুন পেলে।’

১৯৭৮ বিশ্বকাপে তাই লাতিন আমেরিকার এই তারকাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। শক্তিশালী স্কটল্যান্ড প্রায় ৭০ মিনিট তাকে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পরিস্থিতি বদলে যায়।

ডান দিক থেকে বল পেয়ে শট নেওয়ার প্রস্তুতি নেন কিউবিয়াস। সামনে ছিলেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার টম ফরসিথ, যিনি সরাসরি শটের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন; কিন্তু সেখানেই দেখা যায় কিউবিয়াসের সৃজনশীলতা। ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে এমন এক বাঁকানো শট নেন, যা ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে বেঁকে গিয়ে গোলরক্ষক অ্যালান রাফ-এর নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

এই গোলটি শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং তার কৌশলগত দিক থেকেও অনন্য- কারণ এত কঠিন কোণ থেকেও এমন নিখুঁত বাঁক দেওয়া শট খুব কম খেলোয়াড়ই নিতে পারেন।

এরপর ২৯ বছর বয়সী কিউবিয়াস আরেকটি দুর্দান্ত গোল করে নিজের জোড়া পূর্ণ করেন এবং দলকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই জয়ের ফলে পেরু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী পর্বে উঠে যায়, এমনকি নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলকেও পেছনে ফেলে দিয়েছিল।

সব মিলিয়ে, কুবিয়াসের সেই আউটসাইড অফ-দ্য-বুট গোল শুধু একটি গোল নয়- এটি ছিল ফুটবলের শিল্পের এক নিখুঁত উদাহরণ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য গোলের ভিড়ে এই গোলটি আজও আলাদা হয়ে আছে তার সৌন্দর্য, কৌশল আর মুহূর্তের গুরুত্বের জন্য।

ভিডিওতে দেখুন কিউবিয়াসের গোল

আইএইচএস/