ভ্রমণ

জাপানের ফিফথ স্টেশনের পথে: প্রথম পর্ব

দেওয়ান মোহাম্মদ আহসান হাবীব

২০২৪ সালের বিকেলের ঘটনা। এনএইচকে টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন দেখাচ্ছে। বলছে, আজ ৭ নভেম্বর জাপানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ফুজিতে মৌসুমের প্রথম তুষারপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। চমৎকার ড্রোন শট আর ফোর-কে ভিডিও ফুটেজ সম্বলিত প্রতিবেদন, আকৃষ্ট করার মতোই। মৌসুমের প্রথম তুষারপাতের বিষয়টি জাপানি গণমাধ্যমে প্রতি বছরই বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়। জাপানের প্রথম সারির টিভি কেন্দ্র থেকে চাক্ষুষ ভিডিও ফুটেজ প্রচার, সংবাদে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে ক্লিপ ভিডিও আকারে প্রচারসহ নানাবিধ এ সংক্রান্ত কার্যক্রম। বেশ চোখে পড়ার মতোই একটি বিষয়।

নিজস্ব আগ্রহের কারণে এ বিষয়ে কিছুটা জানার চেষ্টা করে বুঝলাম, পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত কারণে প্রথম তুষারপাতের দিনটির কিছুটা আগ-পর প্রতি বছরই হয়। তবে এ বছর জাপানের পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে প্রথম তুষারপাত বেশ বিলম্বিত একটি ঘটনা। একজন আবহাওয়া পর্যবেক্ষক বলছেন, সেপ্টেম্বরে গ্রীষ্মের পর্বতারোহণের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেও তাপমাত্রা ছিল বেশ উত্তপ্ত। তিনি বলেছেন যে, এ কারণেই তুষারপাতের ঘটনা এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কিছুটা পরে এসেছে।

এনএইচকে প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে সচরাচর মৌসুমের প্রথম তুষারপাত সাধারণত ২ অক্টোবরের আশপাশে ঘটে থাকে। তবে এ বছরের প্রথম তুষারপাতের এই তারিখ মোট ৩৬ দিন বিলম্বে পরিলক্ষিত হলো। এখন প্রশ্ন হলো, সামাজিক জীবনে ৩৬ দিন পর তুষারপাতের ঘটনার প্রভাব কী? কেন এটি নিয়ে এত হইচই? আরও ঘাটাঘাটির পর জানতে পারি, জাপানি সমাজে মূলত ফুজি সানে মৌসুমের প্রথম তুষারপাত ঘটার সময় থেকেই শীতকালের আগমন ঘোষণা করা হয়। কাজেই সুনির্দিষ্টভাবে হেমন্তের বিদায় এবং শীতের আগমনের গণনা শুরুর যে মাহেন্দ্রক্ষণ অথবা ঋতুর যে পরিবর্তন; সেটিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় মৌসুমের এই প্রথম তুষারপাতের মাধ্যমে। আমি অবাক হই! বাহ, বিষয়টি দারুণ তো। তার মানে, আজ ঘটা করে হেমন্তের বিদায় আর শীতকালের যাত্রা শুরু হলো!

জাপানের অত্যন্ত পরিচিত আইকনিক স্থানগুলোর অন্যতম মাউন্ট ফুজি। পর্বতটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বহু আগেই। আপনি যদি জানতে চান, পর্বতটি জাপানের কোথায় অবস্থিত, তাহলে প্রশ্নের উত্তর হতে পারে একাধিক। কেউ বলেন, ফুজি পর্বতের অবস্থান জাপানের শিযুওকা জেলায়। আবার কেউ হয়তো বলবেন ফুজি পর্বতের অবস্থান ইয়ামানাশি জেলায়। আসলে দুটি উত্তরই ঠিক। কারণ ফুজি পর্বতমালা দুটি জেলায়ই বিস্তৃত। প্রতি বছর পর্বতটিকে এক ঝলক দেখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অজস্র পর্যটক জাপানের এ দুটি জেলায় ভিড় করেন। শিযুওকা এবং ইয়ামানাশি জেলার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত পর্বতটির চূড়ায় আরোহণের জন্য চারটি পথ আছে। প্রতি বছর ইয়ামানাশি জেলার দিক থেকে পথটি সাধারণত ১ জুলাই এবং শিযুওকা জেলার দিক থেকে তিনটি পথ ১০ জুলাই পর্বতারোহীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। শুধু গ্রীষ্মকালে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সবকয়টি পথই আবার সাধারণত ১০ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রানুসারে ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ফুজি পর্বতে প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার পর্বতারোহী এসেছিলেন।

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালিত হয়। জনজীবনে পর্বতের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে দিবসটিকে ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের সাথে যুগপৎ আমাদের বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। সুতরাং পাহাড়ের পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে এবং টেকসই করতে, মানুষের জীবনের সাথে সাথে দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ি বাস্তুসংস্থানে অন্যান্য প্রাণিকূলের জীবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়বদ্ধ। জাপান দেশটিও এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি কীভাবে পালন করছে, তা জাপানে কর্মসূত্রে আসার কারণে কিছুটা দেখার সুযোগ হয়েছে। ফুজি ঘুরতে গিয়ে পথ চলতে চলতে পাহাড়ি দেশটিতে দেখেছি, সরকার পাহাড়ের প্রতি কতটা সংবেদনশীল। বলা যায়, কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছি কাজটি জাপান সরকার কতটা দরদ নিয়ে, কতটা আপন করে পরিবেশের সুরক্ষায় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অধিকতর বাসযোগ্য দেশ বিনির্মাণে কতটা আন্তরিকতার সাথে করে চলেছে।

জাপানের মানুষের জন্য মাউন্ট ফুজি বা স্থানীয় ভাষায় ফুজি সান শুধু একটি ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি বা পর্বতই নয় বরং দীর্ঘকাল ধরে ফুজি সান জাপানবাসীর জন্য আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ স্থান। জাপানের ইতিহাসজুড়ে জাপানি জনগণের জন্য ফুজি সান অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় ঐতিহ্যেরও প্রতীক। দেশটির সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বিভিন্ন শাখায় তাই প্রায়ই ঘুমন্ত এ আগ্নেয়গিরির প্রতিরূপ বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়। ফুজি সান এবং আশপাশের এলাকা, তাই জাপানে পর্বতারোহণসহ বিনোদন গন্তব্যের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ উষ্ণ প্রস্রবনে ভরপুর ফুজি সান এলাকাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য প্রাকৃতিক স্বর্গ হিসেবেও পরিচিত। মজার বিষয় হলো, ফুজি সানের সৌন্দর্য বর্ণনা করে এই যে এতগুলো কথা এতক্ষণ আমি লিখেছি, এর সবই কিন্তু বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ধার-কর্য করে নেওয়া। কথাগুলোর কোনটিই অসত্য নয়। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লেখা আর নিজে গিয়ে চাক্ষুষ দেখে সৌন্দর্য উপলব্ধি করা, এ দুটির মাঝে অনুধাবনের ফারাক থাকে আকাশ-পাতাল। আমার ক্ষেত্রেও বলতে পারেন এমনটিই হয়েছে।

শৈশব থেকে জেনে আসছি, জাপানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট ফুজি। এরপর চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে সাধারণ জ্ঞানের অংশ হিসেবে জেনেছি ফুজি পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা ৩,৭৭৬ মিটার। ফুজিকে ঘিরে আছে ৫টি অসাধারণ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক লেক! সর্বশেষ ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দশকে এ পর্বতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল, এরকম আরও কত কী! বিশ্বাস করুন, ফুজি সানকে নিজের চোখে দেখার জন্য যখন রওয়ানা দিলাম, যতই ধীরে ধীরে এর কাছাকাছি পৌঁছাতে লাগলাম; ততই যেন ফুজি সান সম্পর্কিত তাত্ত্বিক এই কথাগুলো একেবারে ফিকে হতে লাগল। আসলে জাপান দেশটিকে বলা যেতে পারে একটি পাহাড়সমৃদ্ধ দেশ। এখানে পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে যে সমতল ভূমি আছে মূলত সেই স্থানগুলোতেই গড়ে উঠেছে বড় বড় শহর। টোকিও মহানগরী এমনই একটি স্থানে গড়ে উঠেছে।

যা-ই হোক, সড়ক পথে আমরা ভোর বেলায় রওয়ানা দিই ফুজি সানের উদ্দেশ্যে। টোকিও মহানগরী পেরোতেই ছোট-বড় পাহাড় বেয়ে আমরা গাড়িতে করে এগোতে থাকি। অবাক হয়ে দেখি, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছোট ছোট ঘরগুলো কী সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যেন সবুজ পাহাড়ের গায়ে হালকা হালকা তিলক লেগে আছে। রাতের আলো-আধারিতে জানালার পাড় ভেঙে ফক-ফকা বৈদ্যুতিক আলোর জ্যোতি মনুষ্য উপস্থিতির জানান দেয় এই ঘন সবুজ বিরল পাহাড়ি জনপদে। আমাদের দেশে আমরা যখন কোনো ভবন নির্মাণ করি; তখন দেখা যায় আমরা চারপাশটা সমতল করে কাজ করি। কিন্তু জাপানে ব্যাপারটা সেভাবে কাজ করে না। এখানে পাহাড়ের পার ঘেঁষে যখন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়; তখন যতটুকু সম্ভব পাহাড়ের অকৃত্রিমতা বজায় রাখা হয়। এ কারণেই এখানে একই ভবনের তিনতলায় থেকে পাহাড়ের একপাশে মনে হবে আপনি তিনতলাতেই আছেন, আবার অন্য পাশে গিয়ে মনে হবে আপনি ভূ-পৃষ্ঠের সমতল স্তরে আছেন। কারণ এ পাশটিতে পাহাড়ের মাটি কেটে না সরিয়ে বরং পাহাড়কে তার আদিম রূপেই যত্ন করে রেখে দেওয়া হয়েছে। এটি জাপানের একটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব সামাজিক উদ্ভাবন!

উঁচু-নিচু পাহাড়ি দেশটির সমতলের তুলনায় পাহাড়ে বসবাস নিসঃন্দেহে কঠিন কাজ। কারণ জীবনের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত যে ওপর-নিচ ওঠা-নামা করতে হয়, তা খুবই শ্রমসাধ্য। পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং অসুস্থ কেউ থাকলে আরও জটিল হয়ে ওঠে। পাহাড়ি পরিবেশে জীবনধারণে অনেক জরুরি বিষয়ের মধ্যে, উল্লেখযোগ্য একটি চ্যালেঞ্জ হলো, পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা! তা সত্ত্বেও জাপানের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ পাহাড়ে বাস করেন। বোধ করি পারিপাশ্বির্ক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই বাস করেন। কারণ কারো যদি সমতলে বাস করার সুযোগ থাকে এবং অন্যকোনো বিশেষ সুবিধা না থাকে, সে ক্ষেত্রে কেউ নিশ্চয়ই প্রতিনিয়ত পাহাড়ে বসবাস বা জীবন গড়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে চাইবে না। মজার ব্যাপার হলো, পৃথিবীতে পাহাড় আছে বলেই বড় বড় সব নদীমালার সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল যে পাহাড়গুলো পৃথিবীতে আছে, তাদের শীর্ষদেশে প্রচণ্ড ঠান্ডায় বছরজুড়ে বরফ জমতে থাকে। এই জমে থাকা বরফের চাই থেকে বিন্দু বিন্দু পানির কণা গলে গলে নেমে আসে ধরণিতলে। আসার সময় বিস্তৃত পথ পাড়ি দিতে দিতে সাথে করে নিয়ে আসে পলিমাটির বিশাল জোগান। ঠিক এ প্রক্রিয়াতেই লাখ লাখ বছরের যোজন যোজন প্রাকৃতিক প্রয়াশের সম্মিলত পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে আজকের পৃথিবীতে আমাদের বাংলাদেশ। তাই লাখো বছরের এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাসযোগ্য পৃথবী বিনির্মাণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনায় ও রচনায় পাহাড়ের যে অবদান, তা কী আমরা অস্বীকার করতে পারি?

উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে পাহাড়কে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যেতে পারে। হিমালয় পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮,৮৪৯ মিটার। জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট ফুজির উচ্চতা প্রায় ৩,৭৭৬ মিটার। অন্যদিকে আমাদের দেশে সরকারিভাবে স্বীকৃত সর্বোচ্চ তাজিনডং পর্বতশৃঙ্গটির উচ্চতা ১,২৮০ মিটার। কাজেই পাহাড়ের শীর্ষে তুষার জমে স্বাদু পানির সরবরাহ কিংবা বায়ুপ্রবাহে বাধাগ্রস্ত করে জীবন গড়ার যে প্রাকৃতিক আয়োজন তার প্রতিযোগিতায় আমরা এমনিতেই পিছিয়ে আছি। তাই আমাদের দেশে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উঁচু পাহাড় নেই; যেখান থেকে নদী উৎপন্ন হয়ে সাগরে গিয়ে মিশেছে। উপরন্তু ভাটির দেশ হওয়ার কারণে নদীর নাব্য বজায় রাখাজনিত বিষয়ে আমাদের সব সময়ই উজানের দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অবস্থায় যতটুকুই আছে, তা বাঁচিয়ে রাখা এবং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আমাদের মতো একটি জনবহুল দেশে বেশ প্রয়োজনীয় বিষয়।

একবার চিন্তা করুন, আমাদের দেশের উত্তরে কোনো হিমালয় পর্বতমালা নেই। আমাদের পদ্মা নদী নেই, আমাদের মেঘনা নেই। আমাদের ব্রহ্মপুত্রও নেই। তাহলে কেমন হতো আমাদের ভূচিত্র! হিমালয় পর্বত যে শুধু নদীর উৎপত্তিস্থল তা-ই নয় বরং এ বিশাল প্রাকৃতিক দেওয়ালে ভারত প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উৎপন্ন মেঘমালা ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে উত্তরে যাওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত হয়ে পুরো উত্তরভারতীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। একইভাবে আর্কটিক অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা আর্দ্রতাহীন শুষ্ক বাতাসকে ভারতীয় অঞ্চলে প্রবাহিত হতে বাধাও প্রদান করে এ হিমালয় পর্বতমালা। সুতরাং আমাদের চিরস্থায়ী সবুজ শ্যামল সোনার বাংলার গঠনে হিমালয় স্রষ্টার চিরস্থায়ী আশীর্বাদ! সম্ভবত পর্বতমালা বিশ্বকে তার প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক স্বাদু পানি সরবরাহ করে থাকে, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন ধারণে পর্বতমালা আদর্শ বাসস্থান হিসেবেও কাজ করে।

একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ার জন্য পাহাড় এবং সমতলের একটি সুষম বিন্যাস জরুরি। জাপানে আমি দেখেছি, পাহাড় দেশটির মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি। প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ জনঅধ্যুষিত এ দেশে জনসংখ্যার তুলনায় আদর্শ বাসযোগ্য সমতল ভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কমই বলা যেতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও জাপানের লোকজন তাদের পাহাড়কে কেটে সমতল করেনি। মানুষের বসবাসের দোহাই দিয়ে পাহাড়ের আদিম পরিবেশে আধুনিকতার ছোঁয়া আনেনি। গাছ-গাছালি, বন্যপ্রাণীর জীবনের গুরুত্ব মানুষের লোভের নিচে স্থান দেয়নি। বরং বাসযোগ্য পৃথিবীকে আগামীর জন্য আরও নির্মল, আরও বিশুদ্ধ রাখার সব আয়োজন কঠোর হাতে পরিচালনা করে থাকে। এর জন্য টোকিও মহনগরীতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বাসায় থাকলেও তাদের ঘরের ভেতরে অন্দরমহলের নাগরিক সুবিধা এবং প্রাণ-প্রাচুর্যের কোনো কমতি নেই। তিন বছরের জাপান জীবনে আমি এক মুহূর্তের জন্য কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্যুতি, কিংবা গ্যাসের সংকট অথবা অন্য কোনো ধরনের নাগরিক বিড়ম্বনা দেখিনি। না ঘরের ভেতর না ঘরের বাইরে!

চলবে...

লেখক: জাপানে বসবাসরত গণমাধ্যমকর্মী এবং লেখক।

আরও পড়ুনপাহাড়ের রূপ সাগরে নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল 

এসইউ