চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে দেশের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩১ জন শিশু-কিশোর নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
সড়ক ও পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবকে এ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১১টি জাতীয় দৈনিক, ১৩টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ১১৩ জন (৪৮.৯১ শতাংশ) বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা সহকারী হিসেবে নিহত হয়েছে। পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১৮ শিশু। পথচারী শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি (৪৯ জন, ৪১.৫২ শতাংশ)।
অন্যদিকে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় ৪৪ জন (৩৭.২৮ শতাংশ), প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ১১ জন (৯.৩২ শতাংশ) এবং মোটরসাইকেলে ১৪ জন (১১.৮৬ শতাংশ) শিশু নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে সর্বোচ্চ ৮৫ শিশু (৩৬.৭৯ শতাংশ) নিহত হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কে ৫২ জন (২২.৫১ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৫৬ জন (২৪.২৪ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে ৩৮ জন (১৬.৪৫ শতাংশ) শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুপুরে সর্বোচ্চ ৬৮টি (২৯.৪৩ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর সকালে ৬১টি (২৬.৪০ শতাংশ), বিকেলে ৫৭টি (২৪.৬৭ শতাংশ), সন্ধ্যায় ২২টি (৯.৫২ শতাংশ), রাতে ১৭টি (৭.৩৫ শতাংশ) এবং ভোরে ৬টি (২.৫৯ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি—১০৪ জন (৪৫.০২ শতাংশ)। এছাড়া ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৮৬ জন (৩৭.২২ শতাংশ) এবং ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ৪১ জন (১৭.৭৪ শতাংশ) শিশু মারা গেছে।
প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শিশুবান্ধব সড়ক অবকাঠামোর অভাব, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের অভাব, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো, দুর্ঘটনার পর যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ির খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এসএম/এমকেআর