দেশজুড়ে

রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য বৈসাবি শোভাযাত্রা

রাঙ্গামাটিতে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শহরের পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু উদযাপন কমিটির আয়োজনে শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকতার।

পার্বত্য তিন জেলাসহ সমতলে বসবাসরত সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা প্রত্যেকে যার যার সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, সেই সংস্কৃতিকে আমরা নিজেরাই যদি ধারণ না করি এবং পালন না করি তাহলে অন্য কেউ তা ধারণ করবে না। আমরা লক্ষ্য করছি অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে প্রবলভাবে ধেয়ে আসছে তা প্রতিরোধে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যে পরিবর্তনের জন্য আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে সেই পরিবর্তন আমরা চাইনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকতার বলেন, বিজু মানে আমাদের অস্তিত্ব, বিজু মানে আমাদের জীবন, বিজু মানে আমাদের সংস্কৃতি। আমাদের পোশাক, আমাদের খাবার, আমাদের খেলাধুলা, আমাদের ভাষা, এমনকি আমাদের আচার-আচরণের অনেক কিছু এখন হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ইদানিং অনেকে আমাদের এ উৎসবকে ‘বৈসাবি’ নামে ডাকেন। যাতে আমাদের স্ব-স্ব জাতিস্বত্তার নিজস্ব বর্ষবরণ উৎসবের নাম হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের জুম্ম জাতীয়তার পরিচয় হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের মেলবন্ধন, আমাদের পারস্পরিক সমঝোতা এবং আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। আমরা যাতে আমাদের পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অধিকার, আমাদের ভাষা ভুলে না যাই।

বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার শুভ উদ্বোধন হলো। চারদিনের অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভাষা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং সম্মিলিতভাবে ফুল নিবেদনের আয়োজন রয়েছে।

আরমান খান/আরএইচ/জেআইএম