ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে কমেছে রাজস্ব আয়। তবে রপ্তানি বাণিজ্য চলছে স্বাভাবিক গতিতে। রপ্তানি আয় বাড়াতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর দেওয়া ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সাল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে। হিমায়িত মাছ, রিড, সিমেন্ট, ভোজ্যতেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে। টাকার অংকে যা প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রপ্তানি বাণিজ্য। গত বছরের মে মাসে স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক ফার্নিচার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুস এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। মূলত আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই নির্ভর করে এসব পণ্যের ওপর। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকার বঞ্চিত হয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে।
তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে। এর ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। বর্তমানে হিমায়িত মাছ, আটা-ময়দা ও শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে বেশি। এ অবস্থায় রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বন্দরের রাজস্ব বাড়াতে সবধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি চান তারা।
স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, সেসব পণ্য নিয়েই আমার ব্যবসা ছিল। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমার মতো অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের কাছি দাবি, পণ্যগুলো যেন আবারও রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়।’
বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নেছার উদ্দিন ভূইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে, তাও তেমন না। জাতীয় নির্বাচনের পর বন্দরের ব্যবসা খুব ভালো যাচ্ছে। ভারতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া পণ্য ও ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চলছে। আশা করছি, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তখন ব্যবসা আরও ভালো হবে।’
বন্দরের মাছ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া বলেন, ‘ভারতে নিয়মিত মাছ রপ্তানি হচ্ছে। বাণিজ্য ভালো হচ্ছে। তেলের সমস্যা হওয়ায় পরিবহন ভাড়া কিছুটা বেড়েছে। তবে এর প্রভাব আমদানি-রপ্তানিতে পড়েনি।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিষেধাজ্ঞায় থাকা পণ্যগুলোর বাধা অচিরেই উঠে যাবে। শুধু তাই নয়, আমাদের দাবি যেন এই বন্দর দিয়ে ৩০-৪০টি পণ্য আমদানি করা যায়। যদি নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করে সব পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসায় গতি বাড়বে।’
নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম।
বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৪৩৭ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে আমদানি হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকার চাল, জিরা ও আগরবাতি। যা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম