সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ সংসদে রহিত করায় আজকের দিনটিকে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসের জন্য কালো দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘রায়টি ঘোষণা করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ, ২০২৫। সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস হয় ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ এবং উদ্বোধন করা হয় ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫। এই সচিবালয় অধ্যাদেশও আজকে পার্লামেন্টে রহিত করা হয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আজ কালো দিবস। স্বাধীন বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছে।’
উচ্চ আদালতের রায়ে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে, আংশিক কাজ শুরু হয়েছে। আজকে সে আইনটিকেই তারা রহিতকরণ করেছে। একই সঙ্গে তারা এখন যুক্তি দিচ্ছে যে হাইকোর্টের এই রায় আপিলের পর কার্যকর হবে, আপাতত কার্যকর হবে না। আমরা মনে করি এটাও সঠিক ব্যাখ্যা নয়। এসব ক্ষেত্রে আমরা অতীতে দেখেছি, যেখানে সুনির্দিষ্ট কাজ হয়ে যায়। কোনো আইনের অধীন সেসব জায়গায় স্ট্যাটাস কো থাকে, যতক্ষণ না পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়েছে। কিন্তু এখানে তা না করে ওই আইনটি বাদ করে দেওয়া হয়েছে।’
‘আইনের অধীনে সচিবালয় যে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার কী হবে? বিল্ডিং এর কী হবে? কাজের কী হবে? জনশক্তির কী হবে? এগুলো বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটা কালো উপসর্গ হিসেবে থেকে যাবে,’ যোগ করেন জামায়াতের এ নেতা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি এই ঘটনার জন্য সারা বাংলাদেশের বিচারক এবং আইনজীবীদের কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত। মুখে কালো কাপড় পরা উচিত। আমরা আশা কররো আপনারা (সরকার) বিচার বিভাগের সচিবালয়কে কর্মরত রাখবেন, স্ট্যাটাস কো (বর্তমান অবস্থা বজায়) রাখবেন।’
এফএইচ/একিউএফ