অবৈধ অভিবাসী (পাটিআই) নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৪৭ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। এসব মামলায় মোট প্রায় ৬ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা (কম্পাউন্ড) আরোপ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতোক জাকারিয়া শাবান জানান, এখন থেকে শুধু অবৈধ অভিবাসীদের আটক করেই থেমে থাকছে না বিভাগটি, বরং নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বন্ধ হবে না। কারণ, তারা এখনও এখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। যদি সব নিয়োগকর্তা দায়িত্বশীল আচরণ করেন এবং অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ না দেন, তাহলে বৈধভাবে প্রবেশ ও কাজ করা ছাড়া বিদেশিদের এই দেশে আসার আগ্রহ কমে যাবে।
তিনি আরও জানান, গত বছরে ১,৯৩৯ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে মোট জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩৬.৬ মিলিয়ন রিঙ্গিতেরও বেশি—যা এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোরতার প্রমাণ বহন করে।
এছাড়া চলতি বছরে আদালতের মাধ্যমে ৫৭ জন নিয়োগকর্তার ওপর ১ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। গত বছরে ৪৫৪ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে আদালতের রায়ে ১০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি জরিমানা আদায় করা হয়।
নিয়োগকর্তাদের সাধারণ অজুহাত হিসেবে স্থানীয় কর্মী সংকট এবং নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটার অভাবের বিষয়টি উঠে এলেও, জাকারিয়া শাবান বলেন, এসব অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। ‘আইনে এ ধরনের কোনো ছাড় নেই। নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই নিয়ম মেনে বৈধ উপায়ে কর্মী নিয়োগ করতে হবে,’ তিনি জোর দিয়ে বলেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু অনিবন্ধিত এজেন্ট নিয়োগকর্তাদের কাছে বিদেশি কর্মী সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। তবে এক্ষেত্রে চূড়ান্ত দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদেরই বহন করতে হবে, কারণ তারাই কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন করেন।
এমআরএম