কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন নিয়ে আচমকা বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এপস্টেইনের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ও সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
এপস্টেইনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই ফার্স্ট লেডি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মার্কিন হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, আমি কখনোই এপস্টেইনের বন্ধু কিংবা ভিক্টিম ছিলাম না। নিউ ইয়র্ক সিটি ও পাম বিচের সামাজিক পরিমণ্ডলে একই অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে আমন্ত্রণ পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তার সঙ্গে বা তার সহযোগী গেজিলিন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনের বিমানে ওঠেননি বা তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং তার অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণাও ছিল না। এপস্টেইনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ঘৃণ্য’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে মেলানিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি এপস্টেইনের যৌন অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন জেফরি এপস্টেইন। এরপরই মেলিনাকে বিয়ে করেছেন ট্রাম্প। তবে মেলিনা জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের দুই বছর আগে তিনি ট্রাম্পকে বিয়ে করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে এপস্টেইন ইস্যুকে কম গুরুত্ব দেখানোর চেষ্টা করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে এমন সময় মেলিনা ট্রাম্পের আকস্মিক সংবাদ বিবৃতির ফলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইল।
তার এই আহ্বান রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-দুই দল থেকেই প্রকাশ্য শুনানির দাবিতে সমর্থন এসেছে। কিছু আইনপ্রণেতা ও ভুক্তভোগী অধিকারকর্মীরা এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা বলছেন-শুধু শুনানি নয়, বিচার বিভাগ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, মেলানিয়া ট্রাম্প অতীতে তার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা ও সংশোধনী আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ
কেএম