অর্থনীতি

ডিএপির বিরুদ্ধে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ

গত বছর জালিয়াতি করে কালো তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর আবারও কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত শিথিল করে টেন্ডার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত বছর ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানির কাজে ‘মেসার্স হযরত শাহ সৈয়দ মাক্কি ট্রেডার্স’ ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়ে ধরা পড়ে। ওই সময় অভিযোগের সত্যতা মেলায় প্রতিষ্ঠানটিকে বিসিআইসি কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কালো তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে পারে না। তবে গত ৮ এপ্রিল ডিএপি কমপ্লেক্সে পাঁচটি বাফার গুদামে সার পরিবহনের জন্য আহ্বান করা টেন্ডারে বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানটি অংশ নেয়।

শুধু তাই নয়, তারা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কাজ পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ডিএপি কমপ্লেক্সের টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

টেন্ডার সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ডিএপি কমপ্লেক্সের পরিবহন ঠিকাদার হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার মেট্রিক টন সার পরিবহনের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে চলতি বছরের দরপত্রে সেই শর্ত রহস্যজনকভাবে কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করছে, ওই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পাইয়ে দিতেই অভিজ্ঞতার এ শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রবিউল আলম খান বলেন, মাক্কি ট্রেডার্স কাজ পেতে যাচ্ছে, সেটা কে বললো? ওরা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে। এক বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল, সেই মেয়াদ এখন শেষ হয়ে গেছে।

তাদের জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটি প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে। কারো একজনের জন্য না, ওভারঅল সব টেন্ডারের জন্য এটি করা হয়েছে।

এনএইচ/এমএএইচ/