মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘প্রতিশ্রুতি’ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের পক্ষ থেকে ২ টি পূর্ব শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এই দাবির একটি ইরানের ৫ নম্বর শর্ত। ৪৭ বছর পর এই যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসার জন্য এই ৫ নম্বর শর্তটি পূর্ব শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। উত্থাপিত হয়েছে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া কথা বলা হয়েছিল। অন্য পূর্ব শর্ত হচ্ছে লেবাননে সব ধরনের হামলা বন্ধ করা। ৯ নম্বরের এই শর্ত কিছুটা মানলেও ৫ নম্বর শর্তটি মানার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে যৌথ বাহিনী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এই বিষয়টি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ইরানি আলোচক দলের আসন্ন বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। পাকিস্তানে অবস্থানরত নিজস্ব প্রতিনিধির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল আজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আলোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরান তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সামনে এনেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা এসব শর্ত এবং আলোচনার সূচনার জন্য আরও কিছু বিষয়ে সম্মত। তবে এসবের কিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
আজকের বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং তাদের প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সায়্যেদ আলী খামেনি এবং কয়েকজন সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চল ও অধিকৃত ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যা ইসলামাবাদে আলোচনার পথ সুগম করে। এই আলোচনার জন্য ইরান ১০ দফা পরিকল্পনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার দিনই লেবাননে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৭৩৯ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
কেএম