লাইফস্টাইল

ধূমপান যেভাবে নষ্ট করে আপনার হার্ট

ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম বড় কারণ, তবে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। সিগারেট খেলে শরীরের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সারা শরীরে পৌঁছাতে পারে না। ধীরে ধীরে এই ক্ষতি প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় না বুঝেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভালো খবর হলো, ধূমপান বন্ধ করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হার্ট ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন উভয়ই বলছে, ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। এমনকি দিনে অল্প কয়েকটি সিগারেট খেলেও ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। চলুন জেনে নেই ধূমপান কীভাবে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে-

রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণ নষ্ট করে

রক্তনালীর ভেতরের একটি পাতলা স্তর থাকে, যাকে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াম। এটি রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং জমাট বাঁধা রোধ করে। প্রতিটি সিগারেটে থাকা হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক এই স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে-

রক্তনালী ভেতর থেকে অমসৃণ হয়ে যায় ক্ষতিকর কোলেস্টেরল সহজে জমে যায় ধমনীর ভেতরে প্লাক তৈরি হয় রক্ত চলাচল ধীরে ধীরে কমে যায়

গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেট খাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রক্তনালীর এই ক্ষতি শুরু হতে পারে এবং নিয়মিত ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত বাড়তে থাকে।

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়

স্বাভাবিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধা শরীরের জন্য দরকারি হলেও, অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা বিপজ্জনক। ধূমপান করলে-

প্লেটলেট বেশি আঠালো হয়ে যায় রক্ত সহজে ঘন হয়ে যায় শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয় ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এমনকি একটি সিগারেটও সাময়িকভাবে এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে

সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে-

রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় হৃদপিণ্ডকে বেশি কাজ করতে হয় ধীরে ধীরে হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তচাপ ও হার্টবিট বাড়িয়ে দেয়

নিকোটিন একটি উত্তেজক উপাদান। যা রক্তনালী সংকুচিত করে, হৃদস্পন্দন বাড়ায়, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করে

ধূমপান শরীরে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ তৈরি করে। এই প্রদাহ-

ধমনীর দেয়ালকে আরও দুর্বল করে কোলেস্টেরল জমার প্রবণতা বাড়ায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে ফলে হৃদরোগ দ্রুত অগ্রসর হয় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে

ধূমপান কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এটি খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বাড়ায়, ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) কমিয়ে দেয় ও ক্ষতিকর অক্সিডাইজড এলডিএল তৈরি করে। এই অবস্থায় ধমনীর ভেতরে প্লাক জমা আরও দ্রুত হয় এবং হার্ট ব্লক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘমেয়াদে হৃদপেশী দুর্বল করে দেয়

নিয়মিত ধূমপান দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদপিণ্ড ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে হৃদপিণ্ড বড় হয়ে যেতে পারে, পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায় ও কার্ডিওমায়োপ্যাথি নামের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, হার্ট ঠিকভাবে শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না।

ধূমপান ধীরে ধীরে কিন্তু গভীরভাবে হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করে। ভালো দিক হলো এটি বন্ধ করলে শরীর দ্রুত সাড়া দেয় এবং হার্ট ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও সিডিসি

জেএস/