গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে অনেকেই সফট ড্রিঙ্ক বা সোডার দিকে ঝোঁকেন। তবে এসব পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্বাস্থ্যকর নয়। তার বদলে পুষ্টিগুণে ভরপুর মিল্কশেক হতে পারে অনেক ভালো বিকল্প। মিল্কশেক তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়, কিন্তু কী উপায়ে বানাচ্ছেন সেটিই আসল বিষয়।
অতিরিক্ত চিনি বা মিল্কমেড ব্যবহার করলে ক্যালোরি বেড়ে যায়, ফলে উপকারের বদলে ক্ষতিই হতে পারে। তাই যদি মিল্কশেক খেতে চান, তবে সেটি বানান স্বাস্থ্যকর উপায়ে।
গরম দুপুর বা বিকেলের ক্লান্তি কাটাতে এক গ্লাস ঠান্ডা মিল্কশেক যথেষ্ট। অতিথি আপ্যায়নেও এটি হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। এমনকি ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীরাও নির্দিষ্ট নিয়মে তৈরি করা মিল্কশেক উপভোগ করতে পারেন। নিচে দেওয়া হলো কয়েকটি স্বাস্থ্যকর ও সহজ মিল্কশেকের রেসিপি-
ওটস-আপেল এনার্জি শেকএকটি আপেল (খোসা ছাড়ানো), ২ টেবিল চামচ ওটস, ১ কাপ দুধ এবং ৩-৪টি খেজুর নিন। প্রথমে শুকনো প্যানে ওটস হালকা ভেজে নিয়ে ১৫ মিনিট দুধে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর আপেলের টুকরো ও খেজুর দিয়ে ব্লেন্ড করুন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে কাঠবাদাম যোগ করতে পারেন। পরিবেশনের সময় উপরে বাদাম ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে দিন। ফাইবারসমৃদ্ধ এই শেক দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
একটি কচি ডাবের শাঁস, আধা কাপ ডাবের পানি, ১ কাপ ঘন দুধ ও সামান্য এলাচ গুঁড়ো নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ফ্রিজে ঠান্ডা করুন। পরিবেশনের আগে উপর থেকে ডাবের শাঁসের ছোট টুকরো ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
চকোলেট-পিনাট বাটার শেকএক কাপ ডার্ক চকোলেট, ১ কাপ দুধ ও ৩ টেবিল চামচ পিনাট বাটার নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। চাইলে সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করতে পারেন। ঠান্ডা করে উপরে ডার্ক চকোলেট কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। এটি প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি পানীয়, যা শরীরের শক্তি জোগায় এবং ক্যালশিয়ামের চাহিদাও পূরণ করে।
খেজুর-বাদাম পুষ্টি শেক৫-৬টি খেজুর (বীজ বাদ দেওয়া), ১০টি ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম, ১ কাপ দুধ এবং অল্প জাফরান নিন। খেজুর ও বাদাম ৩০ মিনিট দুধে ভিজিয়ে রেখে পরে সব একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। গ্লাসে ঢেলে উপরে জাফরান ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। আয়রন ও ক্যালশিয়ামে ভরপুর এই শেক শরীরকে শক্তি দেয় এবং গরমে ক্লান্তি কমায়।
পেঁপে-মধুর স্মুদিএকটি পাকা পেঁপে, ১ কাপ ঠান্ডা দুধ, ১ চামচ মধু এবং এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো নিন। পেঁপে ও দুধ ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে উপরে মধু ও গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। এই স্মুদি হজমে সহায়ক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি এসব মিল্কশেক শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তাই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সফট ড্রিঙ্ক বাদ দিয়ে বেছে নিন এই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর পানীয়গুলো।
জেএস/