অর্থনীতি

জমজমাট রিহ্যাব নির্বাচন, নানা প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

এগিয়ে ‘ঐক্য পরিষদ’ দৌড়ে আছে ‘প্রগতিশীল’ ও ‘জাগরণ’ প্যানেলও

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তিনটি প্যানেল। ফলে আবাসন খাতজুড়েই তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনি আমেজ। দীর্ঘ ১৪ বছর পর এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন সামনে রেখে তিনটি প্যানেলই জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রার্থীরা সদস্যদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ভাবনা এবং প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। সভা-সেমিনার, মতবিনিময় সভা এবং প্রচার কার্যক্রমে সরব হয়ে উঠেছে রিহ্যাব সংশ্লিষ্ট মহল।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি রিহ্যাবের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং সদস্যদের স্বার্থ সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সদস্যদের মধ্যে ‘আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ প্যানেলের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আছেন প্যানেলের নেতৃত্বে। তাছাড়া সংগঠনের অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধির নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচিত হলে রিহ্যাব ভবন নির্মাণ অগ্রাধিকার দেবে বলেও জানিয়েছে।

আরও পড়ুনরিহ্যাব নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল ঘোষণা

বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এই প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আক্তার বিশ্বাস (ভাইস প্রেসিডেন্ট-১), মো. জাহাঙ্গীর আলম (ভাইস প্রেসিডেন্ট-২), ইঞ্জিনিয়ার মহসিন মিয়া (ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩), ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. শোয়েব উদ্দিন (ভাইস প্রেসিডেন্ট-ফিন্যান্স) এবং মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান (ভাইস প্রেসিডেন্ট-চট্টগ্রাম)।

প্যানেলটির নেতৃত্ব দাবি করছে, তারা নির্বাচিত হলে রিহ্যাব শুধু পরিচালনা করবে না, বরং দেশের বাস্তব ব্যবসায়িক চাহিদা ও নীতি-পরিবর্তনে জোরালো ভূমিকা রাখবে।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে আবাসন খাত নানা সংকটে রয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, নতুন ড্যাপ নীতিমালা এবং গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান লোকসান এড়াতে নির্মাণ কাজ কমিয়ে দিয়েছে বা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করছে না, যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।  তিনি আরও বলেন, এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ড্যাপ সংশোধন, প্রাসঙ্গিক বিধিমালা হালনাগাদ এবং এনবিআরের টিডিএস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলোর পক্ষ থেকেও জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তারাও সদস্যদের আস্থা অর্জনে নানান পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে, ফলে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পদে ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে ‘প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ’ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থী হলেন- সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ পদে শেখ শাদী, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ পদে এ কে এম বরকাতুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ পদে এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে মো. নূর উদ্দিন আহমেদ।

প্রগতিশীল প্যানেলের প্রার্থী ড. হারুন অর রশিদ বলেন, বিজয়ী হলে আবাসন খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থে প্রথম পর্যায়ে পাঁচ দফায় ১৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি উত্তরায় রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য এক বিঘা জমির ওপর আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ড্যাপ সংশোধন, বিধিমালা হালনাগাদ এবং টিডিএস সমস্যার সমাধানেও কাজ করা হবে।

অন্যদিকে, রিহ্যাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুকাররম হুসাইন খান এবং বর্তমান কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘জাগরণ’ প্যানেলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যদিও তারা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি। এ প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ। তিনি বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন।

প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে খাতের সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেসব সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা সদস্য ও সংগঠনের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য সদস্যদের সমর্থন চাই। আমরা বিজয়ী হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। 

সব মিলিয়ে এবারের রিহ্যাব নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যাশা, একটি দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের আবাসন খাত নতুন গতি পাবে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

ইএআর/ইএ