পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার দিন মার্কিন নৌ-বাহিনীর কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অস্বীকার করেছে ইরান। মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এ প্রকাশিত সংবাদ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন এক ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
এছাড়া ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে দেওয়া ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেইর বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কিছু ঘটনা ছিল। তবে তা তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর সতর্কতার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি ঘটনায় ফুজাইরাহ বন্দর থেকে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা ইরানের পক্ষ থেকে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জাহাজটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি আলোচক দলের কাছে তা জানায়। পরে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত মার্কিন পক্ষকে জানানো হয়। একই সময়ে জাহাজটি কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় যে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সেটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরান স্পষ্টভাবে জানায়, জাহাজটি যদি এগিয়ে যায় তাহলে ৩০ মিনিটের মধ্যে সেটিকে আঘাত করা হবে এবং এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই কঠোর অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেএম