শিক্ষা

ডিসির সন্তানদের জিলা স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত: শিক্ষামন্ত্রী

জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সন্তানদের জিলা স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগে জিজ্ঞেস করতাম কোথায় পড়েছো? বলতো জিলা স্কুলে পড়েছি। জিলা স্কুল মানেই নম্বর ওয়ান স্কুল। কিন্তু এখন গিয়ে দেখেন জিলা স্কুলের দায়িত্বে ডিসিরা, অথচ তাদের ছেলে-মেয়েরা ঢাকায় থাকে। সেখানে কথিত নামি-দামি স্কুলে পড়ালেখা করে। আমি মনে করি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাধ্যতামূলক করা উচিত জিলা স্কুলে ডিসিদের সন্তান পড়ানো। এগুলো আমাদের দেখতে হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) অডিটোরিয়ামে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনে এ সভা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তাদের সন্তানদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াবেন না। তারা নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে পড়াবেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন আমার কার্যক্রম নিয়ে গ্রেডিং শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের এক স্বনামধন্য শিক্ষক আমাকে একমাসের মধ্যে বলে ফেলেছেন ব্যর্থ মন্ত্রী। আমার নাকি পদত্যাগ করা উচিত। উনি নিজের শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পড়ান না, খাতা দেখেন না; এজন্য কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নেমে গেছে। অথচ আমাকে বলছেন পদত্যাগ করতে। এটা হাস্যকর।’

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় কড়াকড়ি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে দাবি করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘গুজব রটিয়েছে এবার পরীক্ষার হলে ঘাড় ঘোরাতে দেওয়া হবে না। কেন ঘাড় ঘোরানো যাবে না? শিক্ষার্থীদের ঘাড় ঘোরাতে দেবো না, এটা কি হয়? আপনারা ঘাড় ঘোরাননি? সবাই ঘুরিয়েছেন। এটা ধরতে কিন্তু সিসি ক্যামেরা লাগাবো না।’

শিক্ষার্থীদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো কাউকে থ্রেট (হুমকি) করিনি, শিক্ষার্থীদের তো কোনো দুশ্চিন্তা নেই। এখন তো সেই দিনও নেই যে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরবো। কিন্তু তারা আমার পদত্যাগ চাইছে। আমি কেন পদত্যাগ করবো? পদত্যাগ তো তখন করবো, যখন সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষাটা আমি নিতে পারবো না।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ ন ম মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী প্রমুখ।

এএএইচ/এসআর