দেশজুড়ে

তেহরানের যুদ্ধ ময়দান থেকে শাকিলের ফেরা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়

ইরানের আকাশে যখন মিসাইল আর বিস্ফোরণের তাণ্ডব, তখন সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একমাত্র আকুতি ছিল বেঁচে ফেরা। ২১ দিনের অনিশ্চিত ও আতঙ্ক সময় পেরিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন শাকিল হোসেন (২৫)। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ভিমপুর গ্রামের এই তরুণ দেশে ফিরলেও, যুদ্ধের দগদগে স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে তার স্বপ্নকে।

শাকিল হোসেন ভিমপুর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম ও শাহানাজ পারভীন দম্পতির ছেলে। তিনি দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট। বড় ভাই মো. হাসান রিফাত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

গত ২১ মার্চ রাতে একটি বিশেষ বিমানে ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন ১৮৬ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে একজন খাজা নাসির তুসি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির পুরকৌশল বিভাগের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন। ইরানের তেহরান থেকে আজারবাইজান হয়ে দেশে পরিবারের কাছে ফেরার পর নিজ চোখে দেখা যুদ্ধ আর মৃত্যুর কাছ থেকে বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস এক গল্প শোনালেন মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন।

‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল। মনে হলো বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কিন্তু সেটি ভূমিকম্প ছিল না। ক্লাসে বসেই জানতে পারলাম, তেহরানের তিনটি স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানুষ যে যার মতো হন্যে হয়ে ছুটছেন। সবাই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।’

খাজা নাসির তুসি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, দিনটি ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরানের আকাশ তখন একের পর এক মিসাইল আর বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত। তেহরানের খাজা নাসিরউদ্দিন তুসি ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বপ্ন বুনছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন। কিন্তু মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন রূপ নেয় বিভীষিকায়।

জাগো নিউজকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন শাকিল হোসেন, ছবি: জাগো নিউজ

তিনি বলেন, এটা রুদ্ধশ্বাস লড়াই। টানা ২১ দিনের উৎকণ্ঠা, ইন্টারনেটহীন বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আর কনকনে শীতের মধ্যে আস্তারা সীমান্তে কাটানো সেই নির্ঘুম রাতগুলো- যা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং প্রধান স্থাপনায় হামলার পর যখন চারিদিকে হাহাকার, তখন জীবন বাঁচিয়ে ফেরার গল্পটি ছিল আমার জন্য এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। মনে হচ্ছিল আর কোনোদিন মা-বাবার কাছে ফিরতে পারব না। চারিদিকে শুধু সাইরেন আর মানুষের ছোটাছুটি।

আরও পড়ুন:লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহত দিপালীর বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিদুঃসংবাদ! ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্সনিহত প্রবাসী তারেকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকারসৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২, একজন বাংলাদেশিমধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, উদ্বিগ্ন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

তিনি বলেন, আজারবাইজান বর্ডারে যখন পৌঁছালাম, তখন মনে হলো নতুন জীবন পেলাম। অবশেষে ২১ মার্চ রাতে বিশেষ বিমানে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখলাম। বর্তমানে ফরিদপুরে বোয়ালমারীর গ্রামের নিজ বাড়িতে পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলেও, স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস।

শাকিল হোসেন বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠল। মনে হলো বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কিন্তু সেটি ভূমিকম্প ছিল না। ক্লাসে বসেই জানতে পারলাম, তেহরানের তিনটি স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানুষ যে যার মতো হন্যে হয়ে ছুটছেন। সবাই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।

‘এটা রুদ্ধশ্বাস লড়াই। টানা ২১ দিনের উৎকণ্ঠা, ইন্টারনেটহীন বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আর কনকনে শীতের মধ্যে আস্তারা সীমান্তে কাটানো সেই নির্ঘুম রাতগুলো- যা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু এবং প্রধান স্থাপনায় হামলার পর যখন চারিদিকে হাহাকার, তখন জীবন বাঁচিয়ে ফেরার গল্পটি ছিল আমার জন্য এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। মনে হচ্ছিল আর কোনোদিন মা-বাবার কাছে ফিরতে পারব না। চারিদিকে শুধু সাইরেন আর মানুষের ছোটাছুটি।’

তিনি বলেন, তেহরানের খাজা নাসির তুসি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পুরকৌশল বিভাগে আমি একাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকি। হল ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা নেই। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনেকেরই আমার মতো অবস্থা। তারাও হলে থাকে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে আমাদের জানানো হলো, আতঙ্কিত না হয়ে আপাতত সবাই হলে অবস্থান করতে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও হলগুলো খোলা থাকবে। ক্লাস থেকে হলে ফিরে এলাম। চারদিকে তখনো একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। নিজ চোখে দেখছি মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল উড়ে যাচ্ছে। লাগাতার বিস্ফোরণ। মনে হচ্ছিল, ভূমিকম্প চলছে। ইরানের অধিকাংশ বহুতল ভবনের মাটির নিচে (আন্ডারগ্রাউন্ড) দুই থেকে তিনটি তলা থাকে। আমরা হলের শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেই অবস্থা মারাত্মক হলে আন্ডারগ্রাউন্ডে সবাই অবস্থান নেব। হঠাৎ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ। মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল। ফলে দেশের বাইরে সরাসরি মোবাইল নম্বরে কল দেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না।

খাজা নাসির তুসি ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, ছবি: জাগো নিউজ

তেহরানে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী আছে। তার মধ্যে বাংলাদেশের পাবনার এক বন্ধু আলী আমিন ইতোমধ্যে আমার হলে এসে উঠেছে। আমরা দুজন তখন তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলাম। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানালেন, তেহরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ আশ্রয়ে অথবা সম্ভব হলে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমি আর বন্ধু আমিন ইফতার শেষ করে বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করলাম। রাতে ফরিদপুরে মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম। তারা বেশ চিন্তিত। আমার মনোবল বাড়াতে বাবা-মা সাহস জোগালেন।

শাকিল হোসেন বলেন, ইরানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রুবিকা ও বালে বেশ জনপ্রিয়। সৌভাগ্যক্রমে ওই অ্যাপগুলো সচল থাকার সুবাদে জানতে পারলাম ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেলাম, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে খবরটি সত্য কি না, নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। অন্য রকম এক আতঙ্কের মধ্যে দু’জন গল্প করে রাত পার করে দিলাম। ভোরে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবর দেখে নিশ্চিত হলাম, খামেনি নিহত হয়েছেন।

পরদিন সকাল থেকে হলগুলো ফাঁকা হতে শুরু করল। সবাই নিজ দেশে অথবা ইরানে অন্য শহরে বন্ধুবান্ধবের বাসায় চলে যাচ্ছে। আবার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলাম। এবার কিছুটা স্বস্তির খবর এলো। বাংলাদেশ দূতাবাস তেহরান থেকে সরিয়ে সাভেহ নামের পাশের শহরে নেওয়া হবে। আমরা চাইলে সেখানে যেতে পারব।

তিনি আরও বলেন, গত ১ মার্চ দিবাগত রাতে আমি আর আমিনসহ তেহরানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাভেহ শহরে গেলাম। সেখানে একটি হোটেলে দূতাবাসের অস্থায়ী কার্যক্রম শুরু হলো। শিক্ষার্থীসহ ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আজারবাইজান হয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করলেন।

শাকিল হোসেনের ফরিদপুরের গ্রামের বাড়ি, ছবি: জাগো নিউজ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় ১৯ মার্চের মধ্যে মোট ১৮৬ জনের ট্রাভেল পাস আমাদের হাতে চলে এলো। ওই দিন রাতেই আমরা আজারবাইজানে প্রবেশ করব বলে দূতাবাস থেকে জানানো হলো। দুপুরের পর ৯টি বাসে আমরা আস্তারা সীমান্তের উদ্দেশে রওনা দিলাম। মাঝরাতে যখন সীমান্তে পৌঁছালাম, তখন সেখানে কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। হামলার খবর পেয়ে আস্তারা স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা আতঙ্কে পালিয়ে গেছেন। সকালের আগে আজারবাইজানে প্রবেশের সম্ভাবনা নেই। সীমান্তে তাপমাত্রা তখন ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে শীতের মধ্যে কেউ বন্দরের ওয়েটিং রুমে, কেউ খোলা আকাশের নিচে আতঙ্কে রাত কাটালাম।

সকাল ৮টার দিকে স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা এসে কাজ শুরু করলেন। আজারবাইজানের লোকজন ইংরেজিতে পারদর্শী নন। তারা মূলত আজারি ভাষায় কথা বলেন। আমার আজারি ভাষা জানা থাকায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়ে গেল। সবার কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে করতে ভোর হয়ে গেল।

ভোরে আজারবাইজানে ঢুকেই দেখলাম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আজারবাইজান ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। এরপর আমাদের গন্তব্য বাকু বিমানবন্দর। দুপুরের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। আমাদের পুরো দলকে নিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট। অবশেষে ২১ মার্চ রাত পৌনে দুইটার দিকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে মাতৃভূমিতে পা রাখলাম।

শাকিল হোসেন বলেন, আমি দেশের বিমানবন্দর থেকে নেমে সরাসরি ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চাচার বাড়িতে উঠলাম। পরদিন চাচার সঙ্গেই ঈদের নামাজ আদায় করে ফরিদপুরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম। বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা বুকে টেনে নিলেন। তখন মনে হলো সত্যিই যেন যুদ্ধের ময়দান থেকে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দুই মাসের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক মাস পরই আমার স্নাতক শেষ হয়ে যেত। এখন কী হবে? দুই মাস পর ফিরতে পারবো কিনা? কপালে কী আছে জানি না।

এ ব্যাপারে শাকিল হোসেনের চাচা নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, যুদ্ধের সময় আমার ভাতিজা শাকিল যখন ইরানে আটকা পড়েছিল তখন আমরা বাড়ির সবাই খানা ছেড়ে দিয়েছিলাম। চিন্তিত ছিলাম। তখন আমাদের খুব চিন্তা হচ্ছিল কখন কী হয়ে যায়। হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে আমার ভাতিজা তখন কী করছে ওখানে। সরকার বিশেষ ফ্লাইটে আমার ভাতিজাসহ ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনায় সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

আরও পড়ুন:সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ছে মার্কিন প্রতিনিধি দলসৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২, একজন বাংলাদেশি

ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন নবাব জাগো নিউজকে বলেন, শাকিল আমাদের এলাকার গর্ব। সে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী। সে যখন ইরানে আটকা পড়ে তখন থেকে তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রেখেছি। অবশেষে শাকিল দেশে ফিরে এসেছে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমার যে কোনো সাহায্য সহায়তা প্রয়োজন হলে সাধ্যমতো শাকিল ও তার পরিবারের পাশে আছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসানের সঙ্গে।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের বোয়ালমারীর একজন শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন ইরান যুদ্ধের কারণে অনেক কষ্ট করে ২১ দিনের পথ পাড়ি দিয়ে দেশে সুস্থভাবে ফিরে এসেছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে যুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধবিরতির দ্বারপ্রান্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যুদ্ধ থেমে গেলেই তিনি যেন তার শিক্ষাক্রম সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে তার ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। আমি আশাকরি, তিনি আবার সুন্দরভাবে ইরানে ফিরে গিয়ে তার শিক্ষা-কার্যক্রম শেষ করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

এনএইচআর/জেআইএম