ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠক। ঐতিহাসিক এই আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন যেখানে ইরানের ‘একগুঁয়েমিকে’ দায়ী করছে, সেখানে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ও ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণেই ভেস্তে গেছে এই শান্তি প্রক্রিয়া।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল তাদের দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থরক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি।
তাদের দাবি, যুদ্ধের ময়দানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল, আলোচনার টেবিলে তারা সেই বিষয়গুলো আদায় করতে চেয়েছিল।
আরও পড়ুন>>দুঃসংবাদ! ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্সইরানের ‘কোনো তাড়া নেই’, বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টেট্রাম্পের ‘বলির পাঁঠা’ হচ্ছেন জেডি ভ্যান্স?
যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিয়েছে, ইরানকে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ উপকরণ দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তারা আলোচনার টেবিলে অনেকগুলো সৃজনশীল ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের ‘অতিরিক্ত লোভ’ তাদের যুক্তিবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেইঅন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগের আগে স্পষ্ট করেছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো জোরালো ও আইনি প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা স্পষ্ট করার পরও ইরান তা মানতে রাজি হয়নি। ভ্যান্সের মতে, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি ক্ষতিকর হবে।
নেপথ্যে ইসরায়েলি ‘নাশকতা’?পাকিস্তানি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার পেছনে ইসরায়েলেরও ভূমিকা ছিল। বৈঠক চলাকালীন বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার বোমা হামলা ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আস্থার সংকট তৈরি করে। পাকিস্তানি কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে ‘বিনষ্ট’ করার একটি চেষ্টা।
এরপর কী?যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের পথে। এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝোঁকেন নাকি নতুন কোনো শর্তের জাল বিছান।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সমঝোতার জন্য তাদের ‘কোনো তাড়া নেই’ এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, আল-জাজিরাকেএএ/