শিক্ষা

ঘাড় ঘোরালেই বহিষ্কার করা হবে, এটা সঠিক নয়

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ধারাবাহিক বক্তব্য দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে তার কথা বলে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তেমন একটি গুজব হলো- পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা ঘাড় পর্যন্ত ঘোরাতে পারবে না।

এ তথ্য ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা নাকি ঘাড় ঘোরাতে দেবো না! এটা কে বলেছে, কোথা থেকে এলো? আরে ঘাড় ঘোরালেই তো নকল হয় না। অনেক সময় একটানা বসে থাকলে, পড়াশোনা করলে আমারা ঘাড় নড়াচড়া করি না? যারা নকল করবে, তা তো আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরাতে সব রেকর্ড থাকবে। সেটা আমরা দেখবো। ঘাড় ঘোরালেই বহিষ্কার করা হবে, এটা সঠিক নয়।’

রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

নকল প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নকলের জন্য দায়ী সরকার, আমাদের শিক্ষকরা নন। শিক্ষকরাই যদি দায়ী হতেন, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও নকল হতো, তা তো হয়নি। নকল হয়েছে পরবর্তী সরকারের আমলে।’

যত সমালোচনাই হোক, নকলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যেটা আমার দায়িত্ব, সেটা সম্ভব হতেই হবে। আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আপনারা আপনাদেরটা করবেন। সব রকম উপায়ে নকল প্রতিরোধ করতেই হবে।’

পরীক্ষার কেন্দ্রে কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে আর ঘুরবেন না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। উই আর লিভিং ইন দ্য গ্লোবাল ভিলেজ। একটি মোবাইল ফোন যদি পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে, তাহলে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরতে হবে কেন?’

সিসিটিভি ক্যামেরা অবশ্যই বসাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ক্লাসরুম পরিদর্শনে যেতে হবে কেন? প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় যদি সিসি ক্যামেরা থাকে, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বসে যখন ইচ্ছে হবে, দেখতে পারবো। শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন কি না, ছাত্ররা ক্লাসে আছে কি না, তা আমি রুমে বসে মনিটরিং করবো।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এতে বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

এএএইচ/একিউএফ