আন্তর্জাতিক

যখন বিশ্বের নজর পাকিস্তানে তখন ট্রাম্পের চোখ ইউএফসি মঞ্চে!

রোম যখন পুড়ছিল নিরু তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল- এই চিরায়ত অবজ্ঞার বাস্তব চিত্র দেখতে পেয়েছে বিশ্ববাসী। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শনিবার (১১ এপ্রিল) যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার পর সরাসরি আলোচনার কথা থাকলেও (৫-৯ নম্বর দফা) দরকষাকষির পর যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মেনে নিলে প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ বৈঠক শুরু হয়।

ইসলামাবাদে সন্ধ্যায় যখন বৈঠকটি শুরু হয় তখন বিশ্ববাসী নজর ছিল এই বৈঠকের দিকে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের চোখ ছিল অন্যদিকে। ওই সময় মায়ামিতে বসে একটি মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) লড়াই দেখছিলেন। যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি পাকিস্তানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছিলেন যে ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে কোনো চুক্তি হয়নি তখন ট্রাম্প (ইউইএফসি-৩২৭) লড়াই দেখছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

      View this post on Instagram

A post shared by Fox News (@foxnews)

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বসে ওই মার্শাল আর্ট ম্যাচ উপভোগ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এছাড়া আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) দেখতে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর, সংগীতশিল্পী ভেনিলা আইস, এফবিআই-এর সাবেক উপপরিচালক ডান বোনগিনো এবং ‘ম্যানোস্ফিয়ার’-এর প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব জো রোগান। ম্যাচ দেখার সময় তারা ট্রাম্পকে ঘিরে অবস্থান করছিলেন এবং আলোচনার টেবিলে কি কি হচ্ছে তার আপডেট জানাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন>>ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউজে হবে ইউএফসি লড়াই

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প মানুষের ভিড়ে থাকলেও, কোনো একভাবে তিনি একা একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন। লোকজন তার চারপাশে ঘুরছিল, আপডেট দিচ্ছিল, আবার চলে যাচ্ছিল। বেশিরভাগ সময়ই ট্রাম্প শান্তভাবে বসে ছিলেন এবং তার সামনে যোদ্ধারা দুর্দান্ত ফাইট দিয়ে একে অপরকে আঘাত করে ইউএফসি মঞ্চে রক্ত ও লালা ছিটিয়ে দিচ্ছিল। এসব দৃশ্য ট্রাম্প নির্লিপ্তভাবে দেখছিলেন।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের ভাব দেখে মনে হয়েছে তিনি হয়ত জানতেন ইসলামাবাদের আলোচনাগুলো ব্যর্থ হবে। তিনি নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিলেন না তার ফোন ছিলো রুবিও কাছে। এরপর এক সময়, রুবিও তার দিকে ঝুঁকে প্রেসিডেন্টকে তার স্ক্রিন দেখান। স্ক্রিনের সে বার্তা দেখে ট্রাম্প কোনো হতাশা বা রাগ প্রকাশ করেননি; বরং ক্যামেরার দিকে সংক্ষিপ্ত হাসি দিয়েছেন এবং বিজয়ীদের জন্য ‘থাম্বস-আপ’ দেখিয়েছেন।

কেএম