আন্তর্জাতিক

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, একমাত্র ভরসা চীন?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর ও রাডার) গুরুত্বপূর্ণ বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য এখন যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে পলিটিকো।

মাত্র ৩৯ দিনের এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাডার ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে ব্যবহার করত মার্কিন বাহিনী।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব রাডার ও ইন্টারসেপ্টরের অনেকগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব ইন্টারসেপ্টর তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো গ্যালিয়াম যা সেমিকন্ডাক্টরসহ নানা উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে গ্যালিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ আধিপত্য এখন চীনের দখলে। অতীতে তারা এই সরবরাহ সীমিত করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যখন তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য গ্যালিয়ামের চাহিদা বাড়াবে তখন চীনের দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়বে। চীনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং- এর আসন্ন বৈঠকে তা আরও স্পষ্ট হবে।

ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র এখন তার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এসব হামলা মূলত যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। মিত্র শক্তির হামলায় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে অনেক ক্ষেত্রে ১০-১১টি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মিখাইল জেলদোভিচ বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে চুক্তির পর দাম কিছুটা কমলেও গত এক মাসে গ্যালিয়ামের দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে। চীনের এই খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণই দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে সাহায্য করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অস্ত্র মজুত পুনরায় গড়তে গিয়ে এসব খনিজের চাহিদা বাড়ায় তবে চীনের প্রভাব আরও বাড়বে। কারণ, গ্যালিয়াম ছাড়াও টারবিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের মতো ভারী বিরল ধাতুও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। আর এগুলোর প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে চীন।

বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান হার্ট সতর্ক করে বলেন, এই বিরল ধাতু সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন জটিলতা তৈরি হবে যেখানে আগে থেকেই উৎপাদন চাহিদা পূরণে ঘাটতি রয়েছে।

এ পরিস্থিতি চীনের বাইরে বিকল্প খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি, বিনিয়োগ ও সরবরাহ চেইন উন্নয়নে কাজ করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। স্বল্পমেয়াদে চীন তার এই প্রভাব ব্যবহার করে কৌশলগত সুবিধা নিতে সক্ষম থাকবে।

কেএম