আন্তর্জাতিক

চীন সফরে আবুধাবির প্রিন্স নাহিয়ান, আলোচনায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দুই দিনের সফরে চীনের বেইজিং শহরে পৌঁছেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি বেইজিং-এ এসেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি।

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং–এর আমন্ত্রণে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। রোববার (১৩ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে, যার মধ্যে মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা এবং ইউএই-এর বিশিষ্ট অর্থনৈতিক অংশীদাররা অন্তর্ভুক্ত।

আবুধাবি সরকারের যোগাযোগবিষয়ক দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, এই সফর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ যা উভয় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানায়, এই সফরের লক্ষ্য হলো চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও উন্নত করা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, যা একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিও জংমিন এর মতে , এই সফর চীন-ইউএই সম্পর্ক এবং বৃহত্তর চীন-আরব সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি দ্বিতীয় চীন-আরব রাষ্ট্রসমূহের শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এক বিবৃতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় চীনা-আরব সম্মেলনের আয়োজন করবে চীন। এই সম্মেলনে চীন ও গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)–এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করা হবে এবং ‘চীন-আরব অভিন্ন’ ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন-ইউএই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক—যেখানে জ্বালানির মতো ঐতিহ্যবাহী খাতের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ, বিশেষ করে জ্বালানি লেনদেনে চীনা মুদ্রার ব্যবহারও বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ইউএই-এর অর্থনৈতিক আস্থাও কিছুটা বৃদ্ধি করে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইউএই চীনের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দেশের বাণিজ্য ৭৬ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

লিউ ঝংমিন আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউএই-এর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব থাকায়, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই জোরদার করবে না বরং চীনের বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সহযোগিতায় বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে, ইতিবাচক গতি সঞ্চার করবে। জিসিসির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ইউএই চীন ও এই জোটের মধ্যে বিস্তৃত সহযোগিতা অনুসন্ধানে সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করতে পারে।

কেএম