গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি গ্রামের ৩০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ কার্যত নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সোনারায় গ্রামের মফিজল হকের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি দিয়ে ৩০-৩৫টি পরিবারের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। গত ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ও মঞ্জু মিয়াসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাস্তার চার জায়গায় বাঁশের খুঁটি ও কঞ্চি দিয়ে বেড়া দেন। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মফিজল হক সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে শক্ত বেড়া দেওয়ার ফলে গ্রামটির কয়েকশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না, কৃষকরা গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে বের হতে পারছেন না। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা; রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা স্কুলে যেতে পারছে না।
বৃদ্ধ ছলেহ হক শেখ (৭৮) আক্ষেপ করে বলেন, এই রাস্তা ব্রিটিশ আমল থেকে আমার বাপ-দাদারা ব্যবহার করে আসছে। এখন আমাদের চারদিক থেকে আটকে রাখা হয়েছে, আমরা চোরের মতো জীবন কাটাচ্ছি।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় দেখি রাস্তায় বাঁশের ঘেরা দেওয়া হয়েছে, তাই আজকে আর স্কুলে যেতে পারিনি।
মোছা. খতেজা বেগম (৩৬) নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা বাড়ি থাকি বাইর হতে পাচ্ছি না। আমার রাস্তা-ঘাট সব বন্ধ কইরছে। আমার হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল আছে। তারা না খেয়ে আছে। কোনো পাশে বাইর হতে পাচ্ছি না। আমার পোলাপানেরা স্কুলে যেতে পারছে না’।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, ১০-১২ বছর থেকে আমাদের মামলা দিয়ে তারা হয়রানি করছেন তারা। কয়েকদিন হয় জেল থেকে এসেছি। সে কারণে মনমানসিকতা ভালো নেই আমাদের। তারপরেও তারা আমাদের অহেতুক গালিগালাজ করে। সে কারণে এটা করেছি। তবে তারা আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে/জেআইএম