পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রংপুরের গড়ন আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে ১০ ও ১১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী মুখোশ তৈরির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ভাস্কর অনীক রেজা ও চিত্রশিল্পী ইশরাত জাহান কাকন।
কর্মশালায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এ ধরনের কর্মশালা নিয়মিত করার চেষ্টার কথা জানিয়ে শিল্পী কাকন বলেন, ‘এই মুখোশের যে রঙ আছে, যে ফর্ম আছে এতে আমাদের ঐতিহ্য মিশে আছে- এই রংগুলো বা এই ফর্মগুলো কিংবা ঐতিহ্যের সুরটা যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে যায়। পারস্পরিক মেলবন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়। অল্প পরিসরে এই আয়োজনে যে সাড়া পেয়েছি তাতে আরও বড় আয়োজনের প্রেরণা পেলাম।’
তিনি বলেন, ‘নববর্ষ আমাদের প্রাণের উৎসব। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াশোনা করেছি। তাই যুক্ত থেকেছি বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনগুলোতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যা শিখতে পেরেছি সেটুকু সবার মাঝে শেয়ার করার একটা প্রয়াস এই আয়োজন।’
কাগজে বাঘের মুখোশ এবং তাতে রং মাখাচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীরা। এরকম একটা পরিবেশে কথা হলো ভাস্কর অনীক রেজার সঙ্গে। তিনি জানান- যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। সুন্দর একটা সময় কাটলো সবার সঙ্গে। অনেকে অংশগ্রহণ করেছে। এর সঙ্গে যারা যুক্ত থেকেছে, যারা সহযোগিতা করেছে- আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে সাধুবাদ ও শুভকামনা রইল।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আবুল কাশেম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তিস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল আলম আল-আমিন।
প্রশিক্ষণার্থী ফারহানা আলো বলেন, মুখোশ তৈরির কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। এখানে ছোট বড় সবার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো কর্মশালায় আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গড়ন আর্ট গ্যালারি এবং রিসার্চ সেন্টারকে অনেক ধন্যবাদ এমন সুন্দর প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য। সামনে এমন আরও অনেক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে আশা রাখছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকা খুবই ভালো একটা কাজ। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। তারা যেন ভবিষ্যতে এরকম আয়োজন আরও করেন সে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
এফএ/এমএস