জাতীয়

পাম্পে-পাম্পে বাগবিতণ্ডা, ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না তেল

রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকা থেকে বিজয় সরণি ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে এসেছেন শাহ নেওয়াজ। অন্য পাম্পগুলোতে ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের তুলনায় তেল নিতে আসা যানবাহনের সারি তুলনামূলক কম হলেও চালকদের চাহিদার তুলনায় শীর্ষে এই সেনা পরিচালিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন।

কারণ একটাই, চাহিদা অনুযায়ী ট্যাঙ্কি ফুল করে কাঙ্ক্ষিত তেল নিতে পারেন চালকেরা। কিন্তু গতকালও রাতে মোটরসাইকেলপ্রতি ১০০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও আজ মাত্র ৮০০ টাকার তেল মিলছে এই পাম্পে। ফলে গত রাত থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে চালকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। পাম্পে পাম্পে চলছে যানবাহনচালক ও তেল বিক্রয় কর্মীদের বাগবিতণ্ডা।

শাহ নেওয়াজ বলেন, গতকাল সারা রাত ১০০০ টাকা করে মোটরসাইকেলপ্রতি তেল দিয়েছে। আজ দিচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকার তেল। কী কারণে তেল কম দিচ্ছে সেটা বলে না। আমরা কিছু বললে বলে বেশি কথা বলবেন, লাইন থেকে বের করে দেবো।

তিনি বলেন, কপালডা এত খারাপ, ১৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে। গতকাল রাত ১১টার সময় এসেছি। মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নামছি আর ওখান থেকেই লাইন শুরু করেছি। ১৩ ঘণ্টা লাগছে এই পাম্প পর্যন্ত আসতে। কিন্তু তারপরও তেল কম পাচ্ছি। আমরা অনেক অনুরোধ করলাম যে অন্তত ১০০০ টাকার তেল দিক, কিন্তু কোনোভাবেই দেবে না।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কয়েকটি তেল পাম্প ঘুরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, পরীবাগের মেঘনা সার্ভিস স্টেশন ও পূর্বাচল ফুয়েল স্টেশন সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ও মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার সামনে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এছাড়া পরীবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় পাম্পটি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে বাইকচালকদের ৮০০ টাকার তেল ও মেঘনা ফুয়েল পাম্পে ৬০০ টাকার পর্যন্ত তেল দিতে দেখা গেছে।

এ সময় ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পাম্পের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী তেল দেবেন। যার ইচ্ছে নেবে। যে নেবে না সে লাইন থেকে বের হয়ে যাবে।

যানবাহন চালকদের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তারা বলেন, পাম্প থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী যে তেল নেবে না সে লাইন থেকে বের হয়ে যেতে পারেন।

মেঘনা ফিলিং স্টেশনের তেলের লাইনের শুরুর দিকে দাঁড়িয়ে আছেন প্রিন্স। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিটবে তার তেল সংগ্রহের অপেক্ষা। তিনি বলেন, ভাই ভোর পৌনে ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও তেল পাইনি।

রাজধানীর মগবাজার থেকে পরীবাগ মেঘনা ফিলিং স্টেশনে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন জামান। তিনি বলেন, ভোর ৬টার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখনও তেল পেতে অন্তত আধা ঘণ্টা সময় লাগবে।

ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ১০ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন শুনছি মাত্র ৬০০ টাকার তেল দিচ্ছে। ৬/৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মাত্র ৬০০ টাকার তেলের জন্য।

মেঘনা ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বরত তেল বিক্রয়কর্মী ইয়াসিন বলেন, গতকালও রাত ২টা পর্যন্ত তেল দিয়েছি। একপর্যায়ে পাম্পে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। ওই রাতেও লাইনে হাজার হাজার লোক দাঁড়িয়ে। রাতে চারবার পাম্প বন্ধ করেছি। চারবার পাম্প খুলে তেল দিয়েছি।

কেআর/এমআরএম