দেশজুড়ে

‘এখন আমি কীভাবে বাঁচবো’ স্বামীকে হারিয়ে লাইলি বেগমের আর্তনাদ

‘এখন আমি কীভাবে বাঁচবো? কার কাছে থাকবো? অসুস্থ শরীরের চিকিৎসা করাবে কে? আমাকে দেখার মতো এই পৃথিবীতে আর কেউ বাকি থাকলো না।’

কুমিল্লায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে নিজ বাড়ির বারান্দায় এভাবেই বিলাপ করছিলেন লাইলি বেগম (৫৮)। তার স্বামীর নাম অব্দুর রশিদ (৬৮)। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি ছিলেন ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। তার আয়েই চলতো সংসার। পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন মাটির জীর্ণ কুটিরে।

দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তঘেঁষা নিভৃত পল্লি ভাইগড় নিশিবাপুর এলাকার ছোট্ট একটি মাটির ঘরে বসবাস আব্দুল রশিদের পরিবারের।

শুধু রশিদ নয়, একই ঘটনায় ওই এলাকায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন (২১), ছইফুদ্দিনের ছেলে বিষ্ণু (৩৫) ও মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০)।

নিহত বাকি তিনজন হলেন নবাবগঞ্জ খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০) এবং ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫)।

এর আগে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুরে তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে চট্টগ্রামমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান। আহত হন আরও ছয়জন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক খাদে, নিহত ৭কাজের খোঁজে বেরিয়েছিলেন ১৩ দিনমজুর, লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন সাতজন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিরামপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নিশিবাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে কুমিল্লায় রওয়ানা হন একই গ্রামের চারজন। বিরামপুর শহরে তাদের সঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলার তিনজন যোগদেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামগামী একটি চালের ট্রাকে করে দুপুর নাগাদ রওয়ানা হন। রাত সোয়া ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিলাপ করতে করতে নিহত সুমনের বাবা পলাশ হোসেন বলেন, ‘আমার পরিবারে সুমন বড় ছেলে। আমার বসতবাড়ি ছাড়া অন্য জমি নেই। সুমনের আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলতো। তাকে হারিয়ে আমাদের আর কিছুই থাকলো না।’

আবুল কাসেম নামের একজন গ্রামবাসী বলেন, ‘একদিনে চারজন মৃত্যুর ঘটনা এই গ্রামে এটাই প্রথম। আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা চরম শোকাহত।’

একই ঘটনায় স্বামী আবুল হোসেনকে হারিয়েছেন শিশির আক্তার। তিনি বলেন, ‘কদিন আগে আমার স্বামী ফরিদপুর থেকে পেঁয়াজ তোলার কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেন। গতকাল কুমিল্লায় আবারও কাজ করার জন্য গেলেন। আমি নিষেধ করেছিলাম কিন্তু আমার কথা শুনলেন না।’

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মো. মাহাবুর রহমান/এসআর/এমএস