শিক্ষা

বৃত্তি পরীক্ষা ফেরায় খুশি অভিভাবকরা, ৪ মাস পরে হওয়ায় ক্ষোভ

‘বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়াটা ভালো। বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। পুরো বইটা বারবার পড়েছে, মুখস্ত করার চেয়ে বরং বুঝে পড়েছে। কিন্তু ডিসেম্বরে যে পরীক্ষা নেওয়ার কথা, তা এপ্রিলে নেওয়ায় ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। আগামীতে ডিসেম্বরের পরীক্ষা ডিসেম্বরে নিলেই ভালো হবে।’

কথাগুলো বলছিলেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ফাবিয়া হকের মা আলেয়া খাতুন। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে ফাবিয়া। মেয়েকে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন আলেয়া খাতুন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। আলেয়া বলেন, ‘মেয়ের প্রস্তুতি ভালো। আশা করি, ও বৃত্তি পাবে। কিন্তু ডিসেম্বর মাস পরীক্ষাটা হলে আরও নিশ্চিত থাকতে পারতাম। মাঝে ক্লাস সিক্সের বই পড়েছে তো। সেজন্য গোলমাল পাকিয়ে গেছে।’

একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে রিপন হোসেনের মেয়েও। রিপন হোসেন বলেন, ‘আমাদের সময় পঞ্চম শ্রেণিতে এই বৃত্তিটা ছিল। মাঝে হতো না, বন্ধ ছিল। এবার সরকার প্রাইমারির এ বৃত্তিটা চালু করে ভালো করেছে। প্রতিযোগিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীরা পড়ায় মনোযোগ দেবে।’

মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অদূরে আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের সামনেও শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। সেখানে ছেলেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করে বাইরে অপেক্ষায় থাকায় শিউলি আক্তার বলেন, ‘অনেক বছর পর এবার পরীক্ষা হচ্ছে। আমার বাচ্চাটা পরীক্ষা দিতে পারছে, এজন্য নিজেকে লাকি (সৌভাগ্যবান) মনে হচ্ছে। বৃত্তি পাক বা না পাক, তা নিয়ে আফসোস নেই। ও ভালো পড়াশোনা করেছে, অনেক কিছু শিখেছে; এটা ভালো দিক।’

এদিকে, এবার সরকারি প্রাথমিকের পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তথা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে তারা প্রস্তুতি নিতে সময় পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বেসরকারির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

রামপুরার উলন রোডের সপ্তবর্ণ কিন্ডারগার্টেনের অভিভাবক নাজিয়া আক্তার বলেন, ‘সরকারির যারা শিক্ষার্থীরা, তারা বছরের শুরু থেকে জানতো যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে। বেসরকারির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে না বলা হয়েছিল। শেষ সময়ে এসে বেসরকারির শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেলেও প্রস্তুতি নিতে মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে। আমি মনে করি, বেসরকারির শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার দেশের ৬১ জেলায় একযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে ঠিক কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তা জানায়নি অধিদপ্তর।

রুটিন অনুযায়ী- আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরদিন ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষা দুইদিন পর শুরু হবে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় একই থাকবে।

প্রাথমিক বৃত্তির বণ্টন যেভাবে

প্রাথমিক বৃত্তি নীতিমালা অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

জানা যায়, সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) শুরু করে সরকার। এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। ফলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৬ বছর বন্ধ ছিল।

এএএইচ/এমআরএম