ক্যাম্পাস

বেরোবির চিকিৎসা কেন্দ্রের এ কী হাল!

প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবায় রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক ও একজন নার্স। শিক্ষার্থীদের দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা পাবার কথা থাকলেও কেবলমাত্র ব্যবস্থাপত্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা মিলছে মাত্র ৮ ঘণ্টা।অব্যবস্থাপনা, ডাক্তারদের বাজে ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ছুটছেন বাইরের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে। আট বছর পূর্ণ করে নয় বছরে এসেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের হাল এটি।খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য দফতর বন্ধের সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়টির দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার এবং শনিবারেও বন্ধ থাকে চিকিৎসাসেবা। তাই সময় আর তারিখ দেখেই নামমাত্র চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১০ হাজার আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় প্রশাসনিক ভবনের চারটি কক্ষ নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে প্রশাসনিক ভবন বন্ধ রাখা হলে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসাসেবাও। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের কাঙ্ক্ষিত সেবার ধরনের সঙ্গে পাল্টাচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা অসুখের ধরনেও। রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় অধিকাংশই জ্বর-সর্দি-কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। কারণ একটু গুরুতর অসুস্থ হলেই পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।সরেজমিন দেখা যায়, চিকিৎসা কেন্দ্রে চারজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আছেন মাত্র দুজন। তাদের একজন মেডিকেল অফিসার (দন্ত) ডা. এ এম এম শাহরিয়ার এবং অপরজন খণ্ডকালীন চুক্তিভিত্তিক মেডিকেল অফিসার ডা. নীলুফার বানু। এছাড়া একজন সেকশন কর্মকর্তা, একজন সেবিকা ছাড়াও আরো নয়জন রয়েছেন। দুই চিকিৎসক প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানান সেকশন কর্মকর্তা এসএইচএম ইকবাল।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সময়মতো তা পাওয়া যায় না। তবে ব্যক্তিগত কাজে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে দেখা যায় বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বেলুন ভর্তি অ্যাম্বুলেন্স ঘুরতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রাকিব বলেন, গত ২০ অক্টোবর এক বান্ধবীর হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ায় বিভাগের শিক্ষকদের পরামর্শে চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে সেখানে খাবার স্যালাইন পাওয়া যায়নি। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়া হয়।চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক সারোয়ার জাগো নিউজকে জানান, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে চিকিৎসক এএমএম শাহরিয়ার মুঠোফোনে কথা বলা অবস্থাতেই প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ হিসেবে ভিটামিন (সলভিট বি+) দেন, যা সেপ্টেম্বর মাসেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসক এএমএম শাহরিয়ারকে বিষয়টি বলায় রেগে গিয়ে আর অন্য ওষুধ দেননি।এতসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেরোবির চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. এম শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, মাত্র দুইজন চিকিৎসক হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে আমাকে একশজনের মতো রোগী দেখতে হয়। চেষ্টা করি ভালো সেবাটা দেয়ার। তবে বছরের শেষদিক হওয়ায় অনেক ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। ওষুধ কেনার প্রস্তুতি চলছে।ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ বলেন, প্রতি সেমিস্টারে ৩০০ টাকা চিকিৎসা ফি নেওয়া হলেও চিকিৎসা সেবার মান দেখে মনে হয় চিকিৎসা কেন্দ্রেরই বেশি চিকিৎসা দরকার।এ ব্যাপারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানান, চিকিৎসক সঙ্কট কেটে যাবে। সিলেকশন বোর্ড হয়ে গেছে। অচিরেই চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।এফএ/আরআইপি