থানায় গিয়েছি, আদালতে গিয়েছি, কিন্তু কোথাও বিচারের ভরসা পাইনি। তিন উকিলের কাছে গিয়েছি, কেউ সাহায্য করলো না। তাই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আসলাম। দেখি সাংবাদিক ভাইয়েরা কী করেন। রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শিমুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফফার এসব কথা বলছিলেন।তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রাম বন্দরে ডাক শ্রমিকের কাজ করি। বাড়িতে না থাকার কারণে স্ত্রী রেহেনা খাতুন ছেলে আসিফকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি পারুলিয়া গরুহাট এলাকায় থাকতেন। চার মাস আগে তার মেয়ে আছিয়া খাতুনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পারুলিয়া গরুহাট এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে অহেদ আলির। বিয়ের পর থেকেই আছিয়ার ওপর শুরু হয় নির্যাতন।আব্দুল গফফার জানান, জামাই অহেদ আলীর সঙ্গে পাশ্ববর্তী আকবর আলির মেয়ে সাদিয়া পারভিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল আগে থেকেই। ঘটনাটি আছিয়া জানার পর এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আকবর আলির বাড়ির সিঁড়ির নিচে অহেদ ও সাদিয়াকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে দেখে তার মেয়ে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আছিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামাই অহেদ আলী, সাদিয়া পারভিন, রাশিদা খাতুন ও আকবর আলি জড়িত।আব্দুল গফফার বলেন, থানায় এজাহার দিয়েছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তারা বলে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে এ বিষয়ে দেবহাটা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ জাগো নিউজকে জানান, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর যদি হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয় তবে মামলা রুজু করা হবে। তাছাড়া ঘটনার তিনদিন পর মেয়েটির বাবা থানায় এসে হত্যার অভিযোগ করেছেন। আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস