রংপুরে চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় আরও পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত।বুধবার দুপুরে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন। এ নিয়ে ১৮, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারিসহ চার কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের চতুর্থ দিনে বুধবার আলুটারী গ্রামের আব্দুল আজিজ, কাজী ইবনে নুর অন্তু, নুরজাহান বেগম, নুরুল হক ও জসিম উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় পুলিশ ৫৭ জনকে সাক্ষী করেছে। আগামী ২৯, ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ২ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাড. আফতাব হোসেন ও স্টেট ডিফেন্স অ্যাড. আবুল হোসেন। এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হোসি কুনিও হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৫ আসামি জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা, সদস্য ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ ও সাখাওয়াত হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়।এ মামলায় জেএমবির আট জঙ্গির বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ আগস্ট দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী। গত ১৩ অক্টোবর কাউনিয়া আমলি আদালত-২ এর বিচারক আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে মামলাটি রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। পরে ২৬ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর বিচারের জন্য মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করেন।১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা জানান, বাকি তিনজনের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারী পলাতক রয়েছেন।এছাড়া আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান গত বছরের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন এ বছরের ৫ জানুযারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ায় তার ব্যবসায়িক সহযোগী জাকারিয়া বালার বাসায় ভাড়া থাকতেন।জিতু কবীর/এএম/এমএস