টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলোতে ঝাড়ুদার নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ফলে উপজেলার পাছ চারান গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. আবু ছাইদ খান সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নির্বাচিত হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে মো. আবু ছাইদ খানের চূড়ান্ত নিয়োগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য স্বাক্ষর করলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করতে না পারায় তার নিয়োগ এখনও সম্পন্ন হচ্ছে না। এ নিয়োগ বাণিজ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ অনুঘটকের কাজ করছেন বলেই অভিযোগ ভুক্তভোগী এমএলএসএস প্রার্থী ছাইদের।নিয়োগ প্রসঙ্গে জানা যায়, কালিহাতী উপজেলায় ৫৩টি মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এমএলএসএস (গার্ড/মালি/ঝাড়ুদার) নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় বিদ্যালয়ের এমএলএসএস নিয়োগে নগদ অর্থের ভিত্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা নিরূপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১৫ নভেম্বর উপজেলার চারান উচ্চ বিদ্যালয়ের এমএলএসএস পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উপজেলার পাছ চারান গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. আবু ছাইদ খান সবোর্চ্চ নম্বর পেয়ে নির্বাচিত হন। নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ওই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পর্যায়ক্রমে স্বাক্ষর করেন। প্রার্থী মো. আবু ছাইদ খান জানান, তিনি যথা নিয়মে পরীক্ষা দিয়ে প্রথম হন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যে তার চূড়ান্ত নিয়োগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য স্বাক্ষর করলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়নি।তার অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসলেম ও ইউনুস তার কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তার চূড়ান্ত নিয়োগ শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আটকে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছামান আলী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার টেবিলে রয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি জানেন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, তিনি কোনো নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্যের কথা চিন্তাও করেন না। চারান উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি যে কোনোভাবে জানতে পেরেছেন এমএলএসএস নিয়োগে অর্থের লেনদেন হচ্ছে। এ অভিযোগটি সভাপতির মাধ্যমে পেয়ে তিনি নিয়োগ স্থগিত করেছেন। এ জন্যই তিনি স্বাক্ষর করেননি।আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/পিআর