জাতীয়

ইমামের মেহরাব ঘিরে সেলফি তোলার হিড়িক

বছরজুড়েই কোনো না কোনো আয়োজন লেগেই থাকে। ঈদে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘরে ফেরা, টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, বাইরে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে মজেন সেলফিতে। আবার অনেকেই সেলফিতে অংশ নেন দল বেঁধে।

অবশ্য সবাই সেলফি-ভক্ত নন। সেলফি তোলা নিয়ে বিরক্তও হন অনেকেই। তবে এতোদিনে আপামর জনতা বুঝে গেছেন, হাজারও প্রতিবাদ করলেও সেলফি তোলা বন্ধ করা যাবে না। বসে আছেন তো সেলফি, খাচ্ছেন তার সেলফি, নতুন পোশাক নিয়ে সেলফি, আপনজনদের সঙ্গে সেলফি, ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকে নিয়ে সেলফি; এমনকি কেউ মারা যাচ্ছেন সেখানেও সেলফি। সেলফি তোলা হচ্ছে এখন কাউকে দাফন কিংবা দাহ করার সময়েও।

তাই সেলফি-সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই ভাল। এ ক্ষেত্রে আদবকেতা মেনে চললে বরং সেলফি হয়ে উঠতে পারে আনন্দের উপলক্ষ। সেরকমটাই দেখা গেছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদের দিনে।

আজ ঈদুল ফিতর। ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে সব শ্রেণির মানুষ ঈদগাহে এক কাতারে মিলিত হয়েছেন। ঈদের নামাজ শেষে সেখানেই বন্ধু, প্রিয়জনদের নিজের ক্যামরায় বন্দি করার জন্য সেলফি তুলতে ব্যস্ত হতে দেখা গেছে অনেককেই। তাদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা বেশি হলেও, ছিলেন সব বয়সের মানুষেরা।

জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইমাম সাহেবের মেহরাব ঘিরে চলে সেলফি তোলার হিড়িক। একক, দ্বৈত এমনকি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েন নামাজিরা।

সেলফি তোলার সময় অনেককেই বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়াতে দেখা গেছে। ওই সময় আবার ইমামের সঙ্গে কোলাকুলিরও ভিড় ছিল। একদিকে কোলাকুলি অন্যদিকে সেখানেই দাঁড়িয়ে ইমামের সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িক। সবমিলিয়ে ঘিঞ্জি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিরক্ত হননি সেখানকার কেউই।

ঈদের নামাজের পর খুৎবা, মোনাজাত এবং রাষ্ট্রপতির প্রস্থানের জন্য মুসল্লিদের যেনো তর সইছিল না। রাষ্ট্রপতি ঈদগাহ থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার আগেই শুরু হয়ে যায় সেলফি তোলার হিড়িক। তরুণদের সেলফি তোলার ভিড়ে ইমামের সঙ্গে কোলাকুলি করতে আসা শিশুদের একটু বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

প্রতিবারের মত এবারও ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান।

ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলমান।

ঈদের নামাজ শেষে খুৎবা পাঠ করার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানদের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নামাজ ও মোনাজাত শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আগত মুসল্লিরা।

এফএইচ/কেএ/পিআর