জাতীয়

সার্জেন্টকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর’ করে জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দোতলা বাস উল্টোপথে চলাচলে বাধা দিলে রাজধানীর বাংলামোটর ক্রসিংয়ে রমনা বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট কায়সার হামিদকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। টেনেহিঁচড়ে তার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন, এমনকি তার প্রাণনাশের হুমকি দেন জবির শিক্ষার্থীরা।

লাঞ্ছিত সার্জেন্ট কাওসার হামিদ বাদী হয়ে জবির ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতনামা ছাত্রের বিরুদ্ধে বেলা ১টায় রমনা মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে তিনি মারধর, ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া তাকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে মারধর’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্বরত সার্জেন্ট বাস উল্টোপথে না গিয়ে সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু বাস তিনটি উল্টোপথে দাঁড়িয়ে গাড়ি চলাচলের পথ আটকে রাখে। গাড়ির চালককে দ্রুত গাড়ি সরিয়ে সঠিক পথে যাওয়ার জন্য বলতে না বলতে অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জন ছাত্র ডাক-চিৎকার দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে সার্জেন্টের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং উল্টোপথেই তাদের যেতে দিতে হবে বলে জোরজবস্তি করতে থাকেন। 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাসগুলো থেমে থাকার কারণে ফার্মগেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট কমাতে তখন সার্জেন্ট বাস তিনটি সঠিক পথে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। উল্টোপথে তাদের যেতে না দেয়ায় জবির অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জন ছাত্র সার্জেন্টকে ঘিরে ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়, এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং পরিহিত ইউনিফর্মের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে ফেলে।

তাৎক্ষণিক সার্জেন্টের চিৎকারে কর্তব্যরত টিআই দেলোয়ার হোসেন এবং সার্জেন্ট আনিসুল হক কায়সার হামিদকে ছাত্রদের হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে অনুরোধ করেন সার্জেন্ট কায়সার হামিদ।

সরকারি কর্মচারীর সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধাদানের অভিযোগে কায়সার হামিদ মামলায় ১৮৬ নম্বর ধারা, সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য হতে বিরত রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করায় ৩৩২ ধারা, সরকারি কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধাদানের নিমিত্ত আক্রমণ ও অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করায় ৩৫৩ নম্বর ধারা এবং তাকে প্রাণনাশের উদ্যোগ নেয়ায় ৩০৭ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেন। এগুলোর মধ্যে ৩০৭ ধারার অভিযুক্ত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এআর/জেএইচ/এমএস