সময়ের আগেই অপরিপক্কভাবে জন্ম নেয়ায় তার জীবন সংকটাপন্ন ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। অবশেষে সেই শঙ্কাটা সত্যি হলো।
না ফেরার দেশে চলে গেল নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শেফালী বেগমের সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যায় সে।
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সোমবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেয় শেফালীর সন্তান। এর আগে গত শুক্রবার নির্যাতনের শিকার হলে শনিবার শেফালীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স লাভলী বেগম নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জন্মের পর গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি সুলতানা জানান, সময়ের ৯ সপ্তাহ আগে ৯০০ গ্রাম ওজন নিয়ে শিশুটির জন্ম হয়।
রসঙ্গত, একটি পারিবারিক ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল শেফালীকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। এ সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন শেফালী।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে শেফালীর মামা সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জড়িতদের বাদ দিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের নামে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার শেফালী বেগম।
জিতু কবীর/এএম/এমএস