জাতীয়

ব্যানার-ফেস্টুনে সেজেছে ‘ইলিশের বাড়ি’

মেঘনা, ডাকাতিয়া, ধনাগোদা নদীর কোল জুড়ে ঘন সবুজ এক খণ্ড ভূমি। আকাশের চাঁদ জ্যোৎস্না হয়ে ঝরে পড়ে এ সবুজ ভূখণ্ডে। জাতীয় মাছ ইলিশের অন্যতম প্রজনন অঞ্চল এ জেলা। তাই নদীমাতৃক এ জেলাকে বলা হয় ‘ইলিশের বাড়ি’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন ইলিশের বাড়িতে। রোববার চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমনকে বরণ করে নিতে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে নদী আচ্ছাদিত এই শহর।

শহরের মোড়ে মোড়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক। ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে স্বাগতম’ লেখা তোরণ। তোরণে উপর শোভা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

পুরো শহর জুড়ে পথে পথে ছেঁয়ে গেছে হরেক রকম ব্যানার-ফেস্টুন। দীর্ঘ আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে জাঁক-জমকপূর্ণ করতেই যেন সব আয়োজন। স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে পথে শুধু তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন।

‘নদী ভাঙন রোধে চাঁদপুর-হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ’ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্যানার করেছেন কেউ কেউ।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উক্তি শোভা পাচ্ছে এসব ব্যানার-ফেস্টুনে। ব্যানার-ফেস্টুন প্রচারণায় পিছিয়ে নেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।

বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানানোর পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ব্যানারে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। হেলিকপ্টারে জেলার হাইমচর উপজেলায় পৌঁছে সেখানে চরভাঙ্গায় বাংলাদেশ স্কাউটের ষষ্ঠ ন্যাশনাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্পে-কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি জেলা সদরে যাবেন এবং চাঁদপুর স্টেডিয়াম থেকে ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ২৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রকল্পগুলো হচ্ছে- চাঁদপুর জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৬তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত ৪তলা স্টাফ কোয়ার্টার, চাঁদপুর পৌরসভায় পুরানবাজার ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার ও উচ্চ পানি সংরক্ষণাগার, পুরান বাজার ইব্রাহিমপুর সাখুয়ায় মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের সুরক্ষা প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), মেঘনা নদীর (হাইমচর) ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা সুরক্ষা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), চাঁদপুর সরকারি কলেজের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গার্লস হোস্টেল, চাঁদপুর পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন।

মতলব উত্তর সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর উপজেলার কলিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, কচুয়া উপজেলায় কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লাউতলীতে ড. রশিদ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও ৪তলা একাডেমিক ভবন, শোল্লা উচ্চবিদ্যালয় একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জেলার আট উপজেলায় ৬০ ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন, হাইমচর থেকে চর ভিরিবি সড়ক উন্নয়ন, চাঁদপুর সদর উপজেলায় হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, আমিনুল হক পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, কদমতলা পৌর সুপার মার্কেট, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান রাজু স্মরণে নির্মিত ‘রাজু চত্বর’, চাঁদপুর মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব সেতু।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলো হচ্ছে- মতলব দক্ষিণ উপজেলার গলিমখানে চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগস্থলে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, কচুয়া উপজোর জগতপুর অংশে চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগস্থলে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, ফরিদগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সংযোগস্থলের চরমান্দারিতে বাউন্ডারি গেট নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক নির্মাণ, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক নির্মাণ, কচুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নির্মাণ, হাইমচর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ।

হাজিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ। কচুয়া পৌরসভায় আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় হারুনা ফেরিঘাট ও কাটাখাল বাজার রক্ষা প্রকল্প, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাশারাও হাইস্কুল শিক্ষা ভবন নির্মাণ। ফরিদঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা ভবন নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলার হযরত শাহজালাল হাইস্কুল শিক্ষা ভবন নির্মাণ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব পৌর ভূমি অফিস নির্মাণ, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, শাহরাস্তি উপজেলার রাগই ইউনিয়ন ভূমি অফিস উদ্বোধন, কচুয়া উপজেলার কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, হাইমচর উপজেলার স্নাবালা জিসি- শরিয়তপুর- চন্দ্রপুর আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক উন্নয়ন, মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১-শয্যা থেকে ৫০ শয্যয় উন্নয়ন এবং চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও চাঁদপুর পৌর অফিস ভবন নির্মাণ।

পরে পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার ত্রি-মোহনায় দাঁড়িয়ে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে চাইবেন ভোটের ওয়াদা, জেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে দেবেন অঙ্গীকার।

এইউএ/জেএইচ/জেআইএম