বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর (বিএনপির বিদ্রোহী) কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবদলের সভাপতি মো. মিনহাজ বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ কারণে তার ভাই শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এখলাস ছাড়াও স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে মিনহাজের আপেল মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সোমবার দুপুরে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে ধানের শীষের প্রচার চালাতে যান। এ সময় মিনহাজের অনুসারীরাও সেখানে আপেল মার্কার পক্ষে প্রচার করছিলেন। ধানের শীষের নেতাকর্মীরা এক পর্যায়ে তাদের বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজের অনুসারীরা ধানের শীষের কর্মীদের বহরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
ধানের শীর্ষের কর্মীরা আপেল মার্কার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। মিনহাজের পোস্টার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ধানের শীষের কর্মী শ্রমিক দল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ছাত্রদল নেতা সিপাত আল-আমিন, আরিফুর রহমান আরিফ এবং আপেল মার্কার কর্মী মাসুদ ও সম্রাটকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ বলেন, কোনো উসকানি ছাড়াই ধানের শীষের কর্মীরা আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় এবং পাঁচবাড়িয়া গ্রামে লাগানো আপেল মার্কার পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আমার কর্মীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আমি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছি।
অপরদিকে বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, স্থানীয় বিএনপি অফিসকে আপেল মার্কার নির্বাচনী অফিস বানানো হয়েছে। এছাড়াও মিনহাজের ভাই এখলাস স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন না। তাকে ডেকেও পাওয়া যায় না। বিএনপি অফিস ব্যবহার করার প্রতিবাদ করতে গেলে আপেল মার্কার লোকজন হামলা করে।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বিএনপি অফিসকে আপেল মার্কার নির্বাচনী অফিস বানানো নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
লিমন বাসার/আরএআর/এমকেএইচ